বাংলাপিডিয়া ও উইকিপিডিয়া তথ্যানুসারে কুষ্টিয়া জেলায় একাত্তর সালে ৪৫ জন বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করেছে পাকিস্তানিরা। অবশ্য এই তথ্য ১৯৭২ সালে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে সরকারিভাবে প্রাপ্ত জেলাওয়ারী হিসেবে প্রাপ্ত। পরবর্তীতে কুষ্টিয়া জেলা ভেঙে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর আলাদা জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। এই প্রাপ্ত তথ্যের বাইরেও সারাদেশে গত ৫১ বছরের গবেষণায় উঠে এসেছে অংসখ্য বৃদ্ধিজীবীর নাম, পরিচয় ও ঠিকানা। একইভাবে এখনও আমাদের অজানা রয়েছে অসংখ্য তথ্য। অনুসন্ধান ও গবেষণায় উঠে আসছে নির্মম হত্যাযজ্ঞের ভয়াবহ বর্ণনা।
১৪ ডিসেম্বর আমরা বৃদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালন করে আসলেও সাতচল্লিশে দেশভাগের পর থেকে একাত্তর সাল পযর্ন্ত পাকিস্তানি শাসকচক্র পূর্ববাংলাকে মেধাশূন্য জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে অসংখ্য নীতি গ্রহণ করেছে। প্রথমেই ধর্মকে কেন্দ্র করে বিভাজন তৈরি এবং মাতৃভাষার উপর আঘাত করে দমিয়ে রাখতে চেষ্টা করে। বিভিন্নভাবে জুলুম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বাংলাদেশের শত শত বুদ্ধিজীবীদের। পরবর্তীকালে যুদ্ধকালীন বাংলাদেশের সাংষ্কৃতিককর্মী, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সংগঠক, প্রকৌশলী, শিল্পী, গীতিকার, সুরকার, আইনজীবী, সমাজসেবাী ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের হত্যা করে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় ধরে বেছে বেছে নীল নকশা করে বাংলাদেশের বৃদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। জাতিকে মেধাশূন্য করার এই অপচেষ্টা পাকিস্তানি শাসকচক্র শুধু ঢাকা শহরেই সীমাবদ্ধ রাখেনি। তৃণমূলের একবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে খুঁজে বেছে স্বাধীনতার স্বপেক্ষর মানুষের উপর হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে শাসকবাহিনী।
বাংলাদেশ সরকারের নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ৩১ জানুয়ারি ১৯৭২ পর্যন্ত সময়কালে যেসব বাঙালি সাহিত্যিক, দার্শনিক, বিজ্ঞানী, চিত্রশিল্পী, শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, স্থপতি, ভাস্কর, সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারী, রাজনীতিক, সমাজসেবী, সংস্কৃতিসেবী, চলচ্চিত্র, নাটক ও সংগীতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এবং এর ফলে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনী কিংবা তাদের সহযোগীদের হাতে শহীদ কিংবা ওই সময়ে চিরতরে নিখোঁজ হয়েছেন, তারা শহীদ বুদ্ধিজীবী।
শহীদ কামাল উদ্দিন
১৯৭১ সালের ২৮ আগস্ট পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কুষ্টিয়া প্রধান শহরের চাঁদ মোহাম্মদ রোডের থানাপাড়ার বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী জনপ্রিয় বিজ্ঞান শিক্ষক কামাল উদ্দিনকে। বিাহরীদের সহায়তায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নির্মমভাবে হত্যা করে এই শিক্ষককে। শিক্ষক কামাল উদ্দিন ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধকারী শিক্ষক। পারিবারিকভাবেই মুক্তিযুদ্ধের স্বপেক্ষ অবস্থান নিয়েছিলেন। কামাল উদ্দিনের এক ভাই মুক্তিযোদ্ধা।
ভেড়ামারা হাই স্কুলের তরুণ বিজ্ঞান শিক্ষক কামাল উদ্দিন শেখ ও তার ছোট ভাই নুরুল ইসলাম শেখ (১৪) ফেরত এসেছিলেন মেহেরপুর থেকে। সঙ্গে ছিলো তাঁর এক শিশু বয়সী ভাই নুরুল ইসলাম শেখ। উদ্দেশ্য ছিল ছয় রাস্তার মোড়ের তাঁদের বাড়িটা রক্ষা করা আর পরিস্থিতি বুঝে একে একে পরিবারের অন্য সদস্যদের ফিরিয়ে আনা। এই দুই ভাইকেও হত্যা করা হয় সেই রাতে। তাঁদের পিতা নাজির আহমেদ শেখ ছিলেন কুষ্টিয়া সদর মহকুমা অফিসের প্রধান সহকারী। শহীদ কামাল উদ্দিন সম্পর্কে তার ভাই রফিকুল ইসলাম (৫৯) এক সাক্ষাৎকারে জানান,
‘ঐ রাতে স্থানীয় বিহারী ও স্বাধীনতা বিরোধীরা আমাদের বাড়ি থেকে আমার দুই ভাইকে তুলে নিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে নৃশংস্যভাবে হত্যা করে। আমার ভাই কামাল উদ্দিন শেখ ছিলেন নামকরা বিএসসি শিক্ষক। তিনি স্বাধীনতার পক্ষে লড়তেন। আমার আরেক ভাই নুরুল ইসলাম শেখকেও হত্যা করে। মহান মুক্তিযুদ্ধে আমার পরিবারের রক্ত ঝরেছে। দেশ স্বাধীন হলে বঙ্গবন্ধু চিঠি পাঠিয়েছিলেন আমাদেরকে। সেই চিঠিই আমাদের স্মৃতি। আমার ভাই শহীদ বুদ্ধিজীবী। (সাক্ষাৎকার: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১)
অধ্যাপক দুর্গাদাস সাহা
একাত্তর সালে কুষ্টিয়া সরকারি মহিলা কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন দুর্গাদাস সাহা। কুষ্টিয়া শহরসংলগ্ন বাড়াদি গ্রামে তাঁদের বাড়ির সামনের জায়গায় সবজি চাষ করতে ভালোবাসতেন। এলাকায় তিনি মধু নামে পরিচিত ছিলেন। হানাদার বাহিনী দুর্গাদাস সাহাকে তারা বাড়ির পাশ থেকে ধরে নিয়ে নির্মম নির্যাতন করে হত্যা করে।
বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত রশীদ হায়দার সম্পাদিত ‘স্মৃতি ১৯৭১’ –এর পুনর্বিন্যাসকৃত প্রথম খণ্ড, গবেষক আবুল আহসান চৌধুরীর ‘আমার আপনজন’ শিরোনামের স্মৃতিচারণামূলক নিবন্ধের তথ্যানুসারে একাত্তর সালের ছিল ২০ এপ্রিল সকালে দুর্গাদাস গোসলের জন্য তৈরি হচ্ছিলেন। মাথায় তেল মাখতে মাখতে তিনি তাঁর ভাইপো অমল কুমার সাহাকে পাশের বাড়ির চাপকল থেকে পানি আনতে পাঠান। এ সময় এলাকার এক ব্যক্তি এসে দুর্গাদাস সাহাকে জানান, তাঁদের প্রতিবেশী ফন্টু সাহার বাড়িতে রাজাকাররা লুটপাট করছে। ফন্টুকে সাহায্যের জন্য যাওয়া দরকার। খবর পেয়েই দুর্গাদাস লুঙ্গি পরা অবস্থায় গামছা কাঁধে নিয়ে ছুটে যান। তাঁর মা গৌরীবালা ছেলেকে খাবার খেয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। দুর্গাদাস বলেছিলেন, ফিরে এসে খাবেন। কিন্তু তিনি আর ফেরেননি।
পরিবারের সদস্যরা পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, দুর্গাদাসকে অবাঙালি রাজাকাররা ধরে নিয়ে গেছে। প্রথমে তাঁকে পুলিশ লাইনসে আটকে রাখা হয়। সেখানে উল্টো করে ঝুলিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। এক দিন পর পাশেই ঘোরলাইন এলাকায় রেললাইনের ধারে দুর্গাদাসকে জবাই করে হত্যা করা হয়। কিন্তু পরিবার তাঁর লাশ পায়নি।
দুর্গাদাস সাহার জন্ম ১৯৪২ সালের ১৭ ডিসেম্বর। বাবা হরিদাস সাহা ও মা গৌরীবালা। চার ভাইয়ের মধ্যে দুর্গাদাস সবার ছোট। দুর্গাদাস ১৯৬২ সালে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন। কুষ্টিয়া কলেজ থেকে বিজ্ঞানে মাধ্যমিক ও স্নাতক পাস করেন। ১৯৬৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি কুষ্টিয়া সরকারি মহিলা কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন।
আবু বকর সিদ্দিক
আবু বকর সিদ্দিক স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মে মাসে তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়ার শিকারপুর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাকশন ক্যাম্পে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসেন। দেশে ফিরে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করা শুরু করেন। জুনের মাঝামাঝি বাড়িতে এলে রাজাকাররা তাঁর পারিবারিক বন্দুকটি দৌলতপুর থানায় জমা দিতে চাপ দিতে থাকে। ঘটনার দিন তিনি বন্দুকটি নিয়ে বের হলে রাজাকাররা তাঁকে ধরে সীমান্তবর্তী প্রাগপুর সেনাক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে নির্মম নির্যাতন করে গুলি করে হত্যা করা হয়।
একাত্তর সালের ১৪ জুন সকালে নিজের লাইসেন্স করা পারিবারিক বন্দুকটি থানায় জমা দিতে যাচ্ছিলেন স্কুল শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক। নাশতা করে বন্দুক নিয়ে ঘর থেকে বের হলেন স্কুল শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক। বাড়ির সামনের সড়ক থেকে স্বাধীনতা বিরোধীরা আবু বকর সিদ্দিককে ধরে তুলে দেয় পাকিস্তানি হানাদার সেনাদের কাছে।
শহীদ আবু বকর সিদ্দিকের জন্ম ১৯৩৫ সালে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বাগোয়ান গ্রামের এক অবস্থাসম্পন্ন সম্ভ্রান্ত পরিবারে। বাবা কিফাত উল্লাহ মালিথা, মা আনোয়ারা খাতুনের ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি পঞ্চম। পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর ঢাকা শারীরিক শিক্ষা কলেজ থেকে ডিপ্লোমা ইন ফিজিক্যাল এডুকেশন ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ক্রীড়া শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন নিজ গ্রামের বাগোয়ান কেসিভিএন হাইস্কুলে। (প্রথম আলো, ১৯ জুলাই, ২০২১)
শহীদ আবুল হাশেম সরকার
শহীদ আবুল হাশেম সরকার ছিলেন গাংনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। যুদ্ধ শুরু হলে তিনি এলাকায় স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেন। এলাকার স্বাধীনতাবিরোধীরা বিষয়টি জানতে পেরে তাঁদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একাত্তরের ১৫ আগস্ট হানাদার বাহিনী রাতের আঁধারে রাজাকার বাহিনী পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ে এসে আবুল হাশেম সরকার ও তাঁর ভগ্নিপতি হাফিজ উদ্দীনকে ধরিয়ে দেয়। হাফিজ উদ্দীনও স্কুল শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষক আবুল হাশেম সরকার ও তাঁর আত্মীয় আরেক শিক্ষক হাফিজ উদ্দীনকে চোখ বেঁধে ট্রাকে তুলে নিয়ে যায় ভাটপাড়া গ্রামের ক্যাম্পে। সেখানে তাঁদের গুলি করে হত্যা করে লাশ ভাসিয়ে দেয় কাজলা নদীতে।
আবুল হাশেম সরকারের সরাসরি ছাত্র কথাসাহিত্যিক ও গবেষক রফিকুর রশীদের মেহেরপুর জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গ্রন্থে আবুল হাশেমের জীবনী রয়েছে। ১৯৯৫ সালে গাংনী হাইস্কুলের সুবর্ণজয়ন্তীতে এই গুণী শিক্ষককে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ২০১১ সালে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল অনুমোদিত কুষ্টিয়ার স্বনির্ভরতায় আশার আলো মুক্তিযোদ্ধা বহুমুখী সমবায় সমিতি তাঁকে ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী সম্মাননা’ প্রদান করে। ২০১৫ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষক লে. কর্নেল কাজী সাজ্জাদ আলী জহির বীর প্রতীক বাংলাদেশ টেলিভিশনে শহীদ শিক্ষক আবুল হাশেম সরকারকে নিয়ে স্মৃতিচারণামূলক অনুষ্ঠান করেন।
শহীদ শিক্ষক আবুল হাশেম সরকারের জন্ম ১৯৩৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর গ্রামে। তিনি এসএসসি থেকে এমএড (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) পর্যন্ত প্রতিটি পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগেও কিছুদিন (১৯৫৭) পড়ালেখা করেন তিনি। আবুল হাশেম সরকার ১৯৫৭ থেকে ১৯৭১ সময়ে কুষ্টিয়ার বাগোয়ান কেসিভিএন স্কুল, ঢাকার শাহীন স্কুল, সাতক্ষীরার তুজুলপুর হাইস্কুল, ঢাকার আজিমপুর গার্লস স্কুলে সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা করেছেন। ১৯৬২ থেকে ’৬৬ এবং ’৬৬ থেকে ’৭১ পর্যন্ত দুই দফায় গাংনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। (১৭ জুন, ২০২১, প্রথম আলো)
আবদুল কাদের
১৯৭১ সালের জুন মাসের কোন এক সকালে সকালে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মহিষকু-ী গ্রামের শিক্ষক আবদুল কাদেরের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ ও পাকিস্তানি হানাদার সেনার দল। এলাকার যুবকদের মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করার জন্য সংস্কৃতিমনা শিক্ষক আবদুল কাদেরকে তারা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনাটি অনেকেই দেখেছিলেন। তবে ভয়ে কেউ কিছু করতে পারেননি। ঘাতকের দল তাদের ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে নির্মম নির্যাতন করে তাঁকে হত্যা করে। তবে পরিবার তাঁর লাশের খোঁজ পায়নি।
সংস্কৃতিমনা ও দেশপ্রেমিক আবদুল কাদের স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি ভালো অভিনয় করতেন। গ্রামে তিনি অনেক মঞ্চনাটক ও যাত্রাপালায় অভিনয় করতেন। স্থানীয়ভাবে আবদুল কাদের আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও যুদ্ধকালীন স্বাধীন বাংলা সংগ্রাম পরিষদের নেতা ছিলেন।
আবদুল কাদেরের জন্ম কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মহিষকু-ী গ্রামে। তাঁর বাবা খাদের আলী ম-ল ছিলেন গ্রামপ্রধান। ম্যাট্রিক পাস করে প্রথমে তিনি ভেড়ামারা পানি উন্নয়ন বোর্ডে চাকরি নেন। পরে ১৯৬৪ সালে মহিষকু-ী হাইস্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। (২১ জুন, ২০২১, প্রথম আলো)
রবিউল হক মল্লিক
একাত্তর সালে কুষ্টিয়া শহরের দেশওয়ালী পাড়ায় স্থানীয় বিহারী ও স্বাধীনতা বিরোধীরা জবাই করে হত্যা করে কোহিনুর ভিলা নামক বাড়ির ১৪ জনকে। বাড়ির মালিক রবিউল হক মল্লিক (৫৬) ছিলেন সমাজসেবক এবং শিক্ষানুরাগী। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর ১৯৫২ সাল থেকে রবিউল হক মল্লিক ভারতের হুগলী জেলা থেকে বাংলাদেশে এসে তিনি কুষ্টিয়া শহরে নিজবাড়িতে বসবাস তরতেন পরিবার সহ। তিনি অর্থ এবং খাবার দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করতেন। রবিউল হক মল্লিক বাড়ির পাশেই ১৯৬৯ সালে এলাকার মানুষের সহযোগিতা নিয়ে মুসলিম সরকারি প্রাথমিক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং ১৯৬৯ সাল থেকে আমৃত্য তিনি ওই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন। রবিউল হক মল্লিকের বড় ছেলে আব্দুল মান্নানও (২০) ছিলেন ওই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জয়বাংলা বাহিনীর সদস্য। (তথ্য : গণহত্যা জাদুঘর থেকে প্রকাশিত কোহিনুর ভিলা গণহত্যা, ২০২১)
লেখক: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক ও কর্মকর্তা, রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া