বিশ্বের বহু দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কাঠামো হিসেবে পরিচালিত হয় ছায়া মন্ত্রিসভা। সাম্প্রতিক সময়ে এটি বাংলাদেশ-এর রাজনীতিতেও আলোচনায় এসেছে, যদিও ধারণাটি বহু পুরোনো এবং বিশেষত ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের সংসদীয় ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
ছায়া মন্ত্রিসভা আসলে কী ছায়া মন্ত্রিসভা হচ্ছে সংসদের বৃহত্তম বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে গঠিত একটি সমান্তরাল মন্ত্রিসভা। এখানে সরকারের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে একজন করে ছায়া মন্ত্রী থাকেন—যেমন ছায়া অর্থমন্ত্রী, ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এই ছায়া মন্ত্রীরা ক্ষমতায় না থাকলেও সংশ্লিষ্ট খাতের নীতি, বাজেট, আইন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বিশ্লেষণ করেন এবং সরকারের বিকল্প নীতিমালা জনগণের সামনে তুলে ধরেন।
ছায়া মন্ত্রিসভার কাজ কি কি ছায়া মন্ত্রিসভা কেবল সরকারের সমালোচনা করে না; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বিকল্প শাসন-প্রস্তুতির কাঠামো। এই মন্ত্রিসভা সরকারের নীতি, ব্যয় ও আইন বিশ্লেষণ করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিকল্প নীতি ও কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করে থাকে। এ ছাড়া সংসদীয় বিতর্কে খাতভিত্তিক নেতৃত্ব দেয় ছায়া মন্ত্রিসভা। ভবিষ্যৎ সরকার পরিচালনার জন্য প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া এবং জনমত সংগঠিত করতে নীতিগত প্রচারণা চালানোও ছায়া মন্ত্রিসভার কাজ।
যেভাবে গঠিত হয় ছায়া মন্ত্রিসভা দেশভেদে প্রক্রিয়ায় সামান্য পার্থক্য থাকলেও সাধারণত ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ধাপগুলো হলো—বিরোধী দলনেতার নেতৃত্বে গঠিত হয়। এই কাঠামোতে সংসদের বৃহত্তম বিরোধী দলের নেতা ছায়া মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেন। এবং অভিজ্ঞ নেতাদের অন্তর্ভুক্তিতে ছায়া মন্ত্রী সভা। এই কাঠামোতে অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও নীতিনির্ধারকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
যেসব দেশে ছায়া মন্ত্রিসভা প্রচলিত
যুক্তরাজ্য: ছায়া মন্ত্রিসভার সবচেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ও কার্যকর রূপ এখানে দেখা যায়। বিরোধী দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে “His Majesty’s Most Loyal Opposition” বলা হয়।
অস্ট্রেলিয়া: দেশটিতে সংসদীয় বিতর্ক ও নীতি বিশ্লেষণে সুসংগঠিত ছায়া মন্ত্রিসভা সক্রিয় থাকে।
কানাডা: এখানে ছায়া মন্ত্রীদের প্রায়ই “Opposition Critics” বলা হয়।
নিউজিল্যান্ড: বিরোধী দল সরকারবিরোধী নীতি বিশ্লেষণ ও বিকল্প পরিকল্পনায় ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করে।
ভারত: আনুষ্ঠানিক ছায়া মন্ত্রিসভা নেই, তবে অনেক দল খাতভিত্তিক মুখপাত্র নিয়োগ করে যা আংশিকভাবে একই ভূমিকা পালন করে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা, জ্যামাইকা, মালয়েশিয়া এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগো-সহ আরও কয়েকটি কমনওয়েলথভুক্ত দেশে বিভিন্ন মাত্রায় ছায়া মন্ত্রিসভার চর্চা রয়েছে।