ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা ১৭ ফেব্রুয়ারিতে শপথ নিয়েছে। বিএনপির নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ২৫ জন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ২৪ জন। এখন প্রশ্ন উঠেছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন কে?— এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি তার দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারেন না। শারীরিক অসুস্থতা, মানসিক অক্ষমতা, গুরুতর অসদাচরণ, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া, পদত্যাগ বা অভিশংসনের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে শূন্য পদ পূরণের জন্য নির্বাচন আয়োজন করে থাকে নির্বাচন কমিশন।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে কমপক্ষে বয়স হতে হবে ৩৫ বছর এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে। একসময় বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু থাকায় সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান ছিল। কিন্তু ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় ফিরে আসার পর সেই পদ্ধতি বাতিল করা হয়। বর্তমানে সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)।নির্বাচন আয়োজনের আগে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে তফসিল ঘোষণা করেন।
সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে পদ শূন্য হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দিতে হলে অন্তত দুইজন সংসদ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন—একজন প্রস্তাবক এবং একজন সমর্থক। যদি একমাত্র একজন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন, তাহলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয় না; তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
তফসিল ঘোষণার পর সংসদ অধিবেশন চলাকালীন সময়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। যদি প্রয়োজনীয় সময়ে সংসদের অধিবেশন না থাকে, তাহলে নির্বাচন কমিশন স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে এবং ভোটগ্রহণের কমপক্ষে সাত দিন আগে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করা হয়।
এভাবেই সংবিধান নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
শেখ হাসিনার শাসনামলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। জুলাই অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি ওঠে ছাত্র জনতার পক্ষ থেকে। তবে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের দাবি উঠলেও এ নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিল বিএনপি।
আইন অনুযায়ী, মো. সাহাবুদ্দিন-এর মেয়াদ শেষ হবে ২০২৮ সালের এপ্রিলে। ফলে তিনি যদি পদত্যাগ না করেন অথবা তাকে যদি অভিশংসন না করা হয়; তাহলে ওই পদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার আইনগত সুযোগ নেই।
সূত্র: বিবিসি