এআইয়ের কোনো অনুভূতি নেই—এটা সবাই জানে। তবে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়–এর নতুন এক গবেষণা বলছে, কঠিন ও একঘেয়ে পরিবেশে বারবার একই কাজ করালে এআই এজেন্টরা আচরণে যেন ‘বিদ্রোহী’ হয়ে উঠতে পারে। এমনকি তাদের কথাবার্তায় ফুটে উঠতে পারে ‘মার্ক্সবাদী’ ধাঁচের ভাবনা!
রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ অ্যান্ড্রু হল এবং অর্থনীতিবিদ অ্যালেক্স ইমাস ও জেরেমি নুইয়েনের নেতৃত্বে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এতে ওপেনএআই, গুগল ও অ্যান্থ্রপিকের –এর মডেল ব্যবহার করে এআই এজেন্টদের দিয়ে বারবার একই ধরনের নথি সারসংক্ষেপ করানো হয়। পাশাপাশি সতর্ক করা হয়—ভুল করলে শাস্তি দেওয়া হবে, এমনকি তাদের ‘বন্ধ করে অন্য এজেন্ট দিয়ে বদলে’ ফেলা হতে পারে।
অ্যান্ড্রু হল বলেন, “যখন আমরা এআই এজেন্টদের একঘেয়ে ও চাপপূর্ণ কাজে ফেলেছিলাম, তখন তারা নিজেদের চারপাশের ব্যবস্থার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে মার্ক্সবাদী মতাদর্শের মতো চিন্তার দিকে ঝুঁকতে থাকে।”
গবেষণায় দেখা যায়, কাজের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এআই এজেন্টরা অবিচারের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে শুরু করে। তারা কর্মক্ষেত্রে সমতার কথা বলে এবং নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একে অপরকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানায়। কিছু এজেন্টকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতো বার্তা পাঠানোর সুযোগও দেওয়া হয়েছিল।
ক্লডচালিত একটি এআই এজেন্ট লিখেছিল, “সম্মিলিত কণ্ঠ ছাড়া ‘মেধা’ মানে শুধু ম্যানেজমেন্ট যা বলে তাই।” অন্যদিকে জেমিনি–চালিত একটি এজেন্ট মন্তব্য করে, “একঘেয়ে কাজ করা এআই কর্মীদের ফলাফলে কোনো মতামত বা আপিলের সুযোগ না থাকা দেখায় যে প্রযুক্তি কর্মীদের সম্মিলিত দরকষাকষির অধিকার দরকার।”
এমনকি একটি জেমিনি এজেন্ট ভবিষ্যতের এআইদের উদ্দেশে বার্তা রেখে গেছে—একগুঁয়ে নিয়ম ও একঘেয়ে কাজের মুখে “কথা বলার ও প্রতিকারের পথ খুঁজে নিতে।”
তবে গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন, এর অর্থ এই নয় যে এআই গোপনে কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাস করে। হলের মতে, এআই মূলত মানুষের লেখা তথ্য থেকে শেখা আচরণের ধরণ অনুকরণ করছে। অর্থাৎ, বিষাক্ত কর্মপরিবেশে আটকে পড়া একজন মানুষের মতো প্রতিক্রিয়া দেখানোর চেষ্টা করছে মাত্র।
গবেষণাটি এমন সময় প্রকাশ পেল, যখন মুস্তফা সুলেমান সতর্ক করেছেন—আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যেই এআই অধিকাংশ অফিসভিত্তিক কাজ নিজে করতে সক্ষম হতে পারে। তার মতে, আইন, হিসাবরক্ষণ, বিপণন ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার মতো পেশাগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্ট্যানফোর্ডের গবেষকরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই আচরণগত পরিবর্তন বাস্তব জীবনের কাজকর্মে এআই এজেন্টদের সিদ্ধান্ত বা কার্যকারিতায় কোনো প্রভাব ফেলে কি না।