চীনের সিচুয়ানের কথা শুনলেই প্রথমে মনে পড়ে তার ঝাল-মশলাদার ও বৈচিত্র্যময় খাবারের কথা। এই খাবারের গভীরে রয়েছে সমৃদ্ধ এক খাদ্যসংস্কৃতি, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ঐতিহ্যবাহী সয়াসস। সেই সংস্কৃতিকে আরো কাছ থেকে জানার সুযোগ পেয়েছি আমার চলমান চীন ফেলোশিপ সফরে শিয়ানশি সয়াসস উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শনের মাধ্যমে।
কেন্দ্রে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে সারি সারি বিশাল আকারের মাটির পাত্র, যা খোলা আকাশের নিচে সাজানো। এই পাত্রগুলোতে প্রাকৃতিক গাঁজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে তৈরি হয় সয়াসস। চারপাশে ছড়িয়ে থাকা সয়াসসের বিশেষ সুবাস এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ আমাকে মুগ্ধ করেছে। এখানকার কর্মীরা নিষ্ঠার সঙ্গে উৎপাদন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করছেন, যা কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে।
বিশাল আকৃতির এসব মাটির পাত্রে তৈরি হয় সয়াসস
ভ্রমণের সময় জানতে পারি, ভালো মানের সয়াসস তৈরি দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রক্রিয়া। সয়াবিন নির্বাচন, প্রাকৃতিক গাঁজন, সংরক্ষণ এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিপক্ক হওয়া; প্রতিটি ধাপই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার থাকলেও ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়, যা এই শিল্পের ইতিহাস ও ধারাবাহিকতাকে জীবন্ত রাখে।
দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে সয়াসস বাজারজাতের জন্য প্রস্তুত
এই সফরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিল বিভিন্ন বয়সের সয়াসস চেখে দেখার অভিজ্ঞতা। এখানে এসে আমি ২ বছর, ৩ বছর, ৪ বছর এবং ৫ বছরের পুরোনো সয়াসসের স্বাদ গ্রহণের সুযোগ পেয়েছি। প্রতিটি সয়াসসের স্বাদ ছিল ভিন্ন। কম বয়সের সয়াসস তুলনামূলক হালকা ও নরম, আর বেশি বয়সেরগুলো ঘন ও স্বাদে সমৃদ্ধ। সময়ের সঙ্গে স্বাদের এই পরিবর্তন সত্যিই আমাকে অবাক করেছে।
কেন্দ্রটি ঘুরে দেখার পাশাপাশি ছবি তোলার সুযোগও পেয়েছি। বিশাল মাটির পাত্রের সারি, উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং ঐতিহ্যবাহী পরিবেশ—সব মিলিয়ে প্রতিটি দৃশ্য যেন সিচুয়ানের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যের জীবন্ত এক গল্প।
শিয়ানশি সয়াসস উৎপাদন কেন্দ্রে লেখক
চীনে আমার চলমান এই যাত্রায় শিয়ানশি সয়াসস উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন নিঃসন্দেহে একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। সিচুয়ানের খাবারের যে গভীরতা ও ইতিহাস রয়েছে, তা এই সফরের মাধ্যমে নতুনভাবে অনুভব করেছি।
ছবি: লেখকের সৌজন্যে