পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। সোমবার (২৩ মার্চ) ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় ভিড়তে থাকে চাঁদপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা লঞ্চ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে যাত্রীচাপ।
ঈদ উপলক্ষে সরকারি ছুটির শেষ দিন সোমবার (২৩ মার্চ)। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) খুলবে অফিস-আদালত, ব্যাংক-বিমা, শেয়ারবাজারসহ সব প্রতিষ্ঠান।
টানা ছুটির পর আবারও কর্মব্যস্ত হয়ে উঠবে রাজধানী। এরইমধ্যে অনেকেই ঢাকায় ফিরছেন, যাতে কর্মস্থলে যোগ দিতে কোনো বিড়ম্বনায় পড়তে না হয়।
সদরঘাটে নামা যাত্রীদের মুখে স্বস্তি থাকলেও ভ্রমণের পথে কিছু ভোগান্তির কথাও উঠে এসেছে। এক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, “যাত্রাপথে বিভিন্ন ধাপে বকশিশ দিতে হয়েছে। বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকেই সিএনজি চালক, ট্রলি বহনকারী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়েছে।” তবে, সব মিলিয়ে যাত্রা সহনীয় ছিল বলে জানান তিনি।
পটুয়াখালী থেকে আসা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “শুরুতে জ্বালানি তেল নিয়ে কিছুটা শঙ্কা ছিল। তবে, সরকারি উদ্যোগে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।”
“মা-বাবার সঙ্গে ঈদ করতে পেরে ভালো লেগেছে। তবে, ভাড়ার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার, না হলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ে,” যোগ করেন তিনি।
বরিশাল থেকে ফেরা বেসরকারি চাকরিজীবী লাবনী সরকার জানান, প্রায় সাত দিন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন।
তিনি বলেন, “ঈদ ভালো কেটেছে। লঞ্চযাত্রা মোটামুটি স্বাভাবিক ছিল। তবে, ফিটনেসবিহীন লঞ্চের বিষয়ে আরো নজরদারি দরকার।” সাম্প্রতিক লঞ্চ দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানান।
চাঁদপুর থেকে ফেরা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তন্বী মাসুমি বলেন, “ছুটির শুরুতে ভাড়ার চাপ তেমন না থাকলেও পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ দেখা গেছে। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
ঢাকার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী আলিফ হোসাইন বলেন, “লঞ্চযাত্রা মোটামুটি ভালো হয়েছে। তবে, অনেক যাত্রী নদীতে ময়লা ফেলছেন, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।”
সোমবার ভোর থেকেই সদরঘাটে দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা লঞ্চগুলো ভিড়তে শুরু করে। দীর্ঘ ছুটির কারণে এবারের ফেরা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হয়েছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। স্বজনদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে আবার কর্মস্থলে ফিরছেন তারা। অনেকে কোনো ভোগান্তি ছাড়াই ঢাকায় পৌঁছাতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এবার ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিনের সরকারি ছুটি ছিল। গত শনিবার দেশে উদযাপিত হয় মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ছুটির এই সময়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ।
তবে, ঈদের ছুটির শেষ হওয়ার পরও অনেকে এখনো ঢাকায় ফেরেননি। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকারি ছুটি রয়েছে। এর সঙ্গে ২৪ ও ২৫ মার্চ ঐচ্ছিক ছুটি এবং ২৭ ও ২৮ মার্চ সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে অনেকে টানা দীর্ঘ ছুটি কাটাচ্ছেন। ফলে, সবাই একসঙ্গে না ফিরলেও ধীরে ধীরে ঢাকামুখী মানুষের চাপ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সদরঘাট প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঈদ শেষে রাজধানীতে ফেরা মানুষের চাপ সামাল দিতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বড় ধরনের কোনো ভোগান্তি ছাড়াই যাত্রীরা ঢাকায় পৌঁছাতে পারায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেকে। জীবিকার তাগিদে আবারও ব্যস্ত নগরজীবনে ফিরলেও ঈদের স্মৃতি তাদের মনে রয়ে যাবে দীর্ঘদিন।