ওষুধ উৎপাদন খাতে অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, “কিছু ক্ষেত্রে ওষুধের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যে উপাদান থাকার কথা, অনেক সময় তা কম পাওয়া যাচ্ছে। আবার ভালো মানের ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বাধার মুখে পড়ছে-এ ধরনের পরিস্থিতি স্বাস্থ্য খাতের জন্য ক্ষতিকর।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “স্বাস্থ্য খাতে গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির অগ্রগতি হলেও নৈতিকতা ও সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এর সুফল টেকসই হবে না। মানুষকে স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করা, পরিহারযোগ্য ঝুঁকি সম্পর্কে জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া এবং নৈতিকতার ভিত্তিতে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”
তিনি আরো বলেন, “স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শুধু চিকিৎসা নয়, বরং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে সার্বিক সচেতনতা জরুরি। এজন্য জনগণের পাশাপাশি নীতি নির্ধারক, প্রশাসন, চিকিৎসক ও ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”
টিকাদান কর্মসূচির উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “সঠিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা ছাড়া ভ্যাকসিন কার্যকর থাকে না। পরিকল্পনা ও বাস্তবতার মধ্যে সমন্বয় না থাকলে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।”
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “পরিবেশ দূষণ, অনিয়ন্ত্রিত শিল্পকারখানা এবং মশা নিধনে অনিয়মসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। একদিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে অব্যবস্থাপনার কারণে নতুন রোগ তৈরি হচ্ছে এভাবে চলতে পারে না।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, “আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে আরো শক্তিশালী করা সম্ভব। জিনোম সিকোয়েন্সিং, ডিজিটাল সার্ভেল্যান্স ও ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে দ্রুত রোগ শনাক্ত ও বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।”
স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদসহ স্বাস্থ্য ও পরিবার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।