স্বাস্থ্য

নার্সদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান

দেশের স্বাস্থ্য খাতে নার্সদের অবদান ও পেশাগত সংকট তুলে ধরে তাদের অধিকার, মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন।

সংগঠনটির প্রতিনিধিরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি জট, জনবল সংকট, বৈষম্যমূলক বেতন কাঠামো এবং পেশাগত অনিশ্চয়তার কারণে নার্সরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। দ্রুত এসব সমস্যা সমাধান না হলে স্বাস্থ্যসেবার মান আরো ব্যাহত হতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সোমবার (১১ মে) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘বাংলাদেশ স্বাস্থ্য সেবায় নার্সদের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় এসব কথা বলা হয়। আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন।

সভায় বক্তারা বলেন, দেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ প্রতিনিয়ত বাড়লেও সে অনুপাতে নার্স নিয়োগ হচ্ছে না। ফলে সীমিত সংখ্যক নার্সকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর মানসিক চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে রোগীরাও কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সভা থেকে নার্সদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ৮ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর কর্তৃক প্রস্তাবিত নিয়োগবিধি, অর্গানোগ্রাম, স্ট্যান্ডার্ড সেট-আপ এবং ক্যারিয়ার প্যাথ দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়ন। পাশাপাশি ৯ম থেকে ৪র্থ গ্রেড পর্যন্ত উচ্চতর পদে ভূতাপেক্ষভাবে পদ প্রমার্জনের মাধ্যমে পদোন্নতি এবং সুপারনিউমারারী পদোন্নতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়া নার্সিং সুপারভাইজার ও নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর পদ ৯ম গ্রেডে উন্নীত করা, ডিপ্লোমা নার্স-মিডওয়াইফদের সনদকে স্নাতক (পাস) সমমান প্রদান এবং গ্র্যাজুয়েট নার্স-মিডওয়াইফদের জন্য প্রফেশনাল বিসিএস চালুর সুপারিশ করা হয়।

বক্তারা বলেন, বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান ও নার্সিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নার্স নিয়োগে এখনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। অনেক জায়গায় কম বেতনে অনিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে হচ্ছে নার্সদের। তাই মানসম্মত বেতন কাঠামো প্রণয়ন এবং অপ্রশিক্ষিত ও নিবন্ধনবিহীন ভুয়া নার্স-মিডওয়াইফদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

আলোচনা সভায় নার্স-মিডওয়াইফদের জন্য ঝুঁকি ভাতা চালু, বিগত সরকারের সময় চাপিয়ে দেওয়া নার্সিং ইউনিফর্ম পরিবর্তন এবং শয্যা, রোগী ও চিকিৎসক অনুপাতে পর্যাপ্ত নার্স-মিডওয়াইফ পদ সৃষ্টি ও নিয়োগের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, “বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নার্সরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। কিন্তু উন্নত দেশের তুলনায় এখানে নার্সের সংখ্যা অনেক কম। স্বাস্থ্য খাতকে কার্যকর করতে হলে নার্সদের দক্ষতা, মর্যাদা ও কর্মপরিবেশের উন্নয়ন জরুরি।”

বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার হালিমা আক্তার বলেন, “নার্সিং পেশাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হলে আধুনিক প্রশিক্ষণ, সঠিক মূল্যায়ন এবং পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নিবন্ধিত ও প্রশিক্ষিত নার্সদের যথাযথ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন ড. শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, “নার্সদের দীর্ঘদিনের যৌক্তিক সমস্যাগুলোর সমাধান না হওয়ায় পেশাজীবীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে নার্সদের অবদান স্বীকার করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”