আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের মাসিক ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক বেতনের সমপরিমাণ অর্থাৎ ২২ হাজার টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমানে তাঁরা ২০ হাজার টাকা ভাতা পান। এরপর তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সোমবার (৮ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রতিনিধিদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। পরে এক যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিষয়টি জানান স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।
সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা ২২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এফসিপিএস প্রশিক্ষণরত চিকিৎসকদের কোনো ধরনের ইনক্রিমেন্ট ছাড়া নবম গ্রেডের সমপর্যায়ের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য সচিব জানান, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসকদের বর্তমান ভাতাও আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি করা হবে। এ ছাড়া এফসিপিএস পার্ট-১ এবং এমডি/এমএস (ফেজ-১) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের মাসিক ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভাতা নিয়মিতভাবে প্রতি মাসে পরিশোধ করা হবে বলেও জানান তিনি।
সরকার স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নের বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে বলে জানান সচিব। পাশাপাশি বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্স (বিসিপিএস) ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এর পরীক্ষার ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও মেডিকেল কলেজে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য সম্মানজনক বেতন কাঠামো তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
এসব দাবি পূরণের আশ্বাসে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির (আইডিএস) সাধারণ সম্পাদক ডা. নাবিল বিন কাশেম কর্মবিরতি স্থগিত ঘোষণা দিয়ে সেবায় ফেরার কথা জানান।
এর আগে ছয় দফা দাবিতে রবিবার (৭ জুন) থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন সারা দেশের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। তাঁদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করছেন। সোমবার (৮ জুন) কর্মবিরতিতে যোগ দেন পোস্টগ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকেরাও।
চিকিৎসকদের দাবিগুলোর মধ্যে ছিল নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী ইন্টার্নদের ভাতা কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ট্রেইনি চিকিৎসকদের নবম গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর করা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য সুস্পষ্ট বেতন কাঠামো প্রণয়ন।