আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘকে ট্রাম্প : রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কঠোর পদক্ষেপ নিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কঠোর ও দ্রুত পদক্ষেপ চেয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বুধবার নিউ ইয়র্কে নিরাপত্তা পরিষদে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের সংস্কারবিষয়ক এক আলোচনায় বক্তব্য রাখার সময় এ তথ্য জানিয়েছেন। মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর আউটপোস্টে হামলার প্রতিক্রিয়ায় ‘ভয়ংকর, বর্বর, গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া ও ঘরবাড়ি থেকে রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করার’ অভিযান পরিচালনার জন্য দেশটির সেনাবাহিনীকে অভিযুক্ত করেছেন মাইক পেন্স। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র আগে যে আহ্বান জানিয়েছিল, মাইক পেন্স আবারো সেই একই আহ্বান জানালেন। রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানান তিনি। মাইক পেন্স বলেন, ‘সংকটের সমাধান, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগের সময় তাদের প্রতি প্রত্যাশা ও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও আমি আহ্বান জানাচ্ছি।’ ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত দুইবার রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে নিরাপত্তা পরিষদ। গত সপ্তাহে এক বিবৃতিতে রাখাইনের পরিস্থিতির জন্য মিয়ানমারের নিন্দা করে তারা এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আহ্বান জানায়। মাইক পেন্স বলেন, ‘এই সহিংসতা যতক্ষণ বন্ধ না হচ্ছে, পরিস্থিতি আরো বেশি খারাপ হবে। এই সহিংসতার জন্য বিচার হওয়া উচিত। এই সহিংসতা ওই অঞ্চলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ঘৃণা ও বিশৃঙ্খলার বীজ ছড়িয়ে দেবে এবং আমাদের সবার শান্তির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।’ রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার জন্য মিয়ানমারের প্রতি এটিই এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কঠোর বার্তা। দেশটির সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার রোহিঙ্গা। সহস্রাধিক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত নিধন’ বলে অভিযোগ তুলেছে জাতিসংঘ। বুধবার জাতিসংঘে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানকে ‘গণহত্যা’-এর অভিযান চলে উল্লেখ করেন। এদিকে, মিয়ানমার দাবি করছে, পরিস্থিতি শান্ত হচ্ছে। অং সান সু চির সুরে সুর মিলিয়ে মিয়ামনারের দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট হেনরি ভন থিয়ো জাতিসংঘে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনিও রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার না করে শুধু মুসলিম বলে পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন। রাখাইন থেকে রোহিঙ্গারা কেন বাংলাদেশে পালিয়ে যাচ্ছে, তা তদন্ত করে দেখার কথা বলেছেন তিনি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে টেলিভিশনে সরাসরি জাতির উদ্দেশে মঙ্গলবার অং সান সু চি যে ভাষণ দেন, হেনরি ভন থিয়োর বক্তব্য ছিল তার চেয়েও বেশি দুর্বল। জাতিসংঘে তিনি বলেন, ‘আপনাদের অবহিত করতে পেরে আমি খুশি যে, পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বরের পর সেখানে কোনো সংঘর্ষ হয়নি।’

       

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭/রাসেল পারভেজ