চীনের উহান থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা সাত হাজার ১৬৪ জন দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৮২ হাজার ৫৫০ জন। বিশ্বের ১৬২টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এই মহামারি ভাইরাস।
তবে এখন পর্যন্ত ৭৯ হাজার ৮৮১ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের (এনএইচসি) তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৬ মার্চ) চীনে আরো ১৩ জন মারা গিয়েছেন। চীনে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা তিন হাজার ২২৬ জন। করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৮৮১ জন । এর মধ্যে মোট ৬৮ হাজার ৬৮৮ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন।
চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা ইতালি। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২৭ হাজার ৯৮০ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। অন্যদিকে মারা গেছেন দুই হাজার ১৫৮ জন। এর মধ্যে মোট দুই হাজার ৭৪৯ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন।
ইরানে মোট ১৪ হাজার ৯৯১ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৮৫৩ জন মারা গেছেন। সুস্থ হয়েছেন চার হাজার ৯৯৬ জন সুস্থ হয়েছেন।
স্পেনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪২ জনে। দেশটিতে ইতোমধ্যে নয় হাজার ৯৪২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন ৫৩০ জন।
দক্ষিণ কোরিয়ায় মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১ জনে। দেশটিতে ইতোমধ্যে আট হাজার ৩২০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৪০১ জন।
অন্য দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্স ১৪৮, আমেরিকা ৮৭, সুইজারল্যান্ড ১৯, জার্মানি ১৭, নরওয়ে ৩, সুইডেন ৭, নেদারল্যান্ড ২৪, ডেনমার্ক ৪, যুক্তরাজ্য ৫৫, জাপান ২৭, ইরাক ১০, বেলজিয়াম ১০, অস্ট্রেলিয়া ৫, অস্ট্রিয়া ৩, কানাডা ৪, গ্রিস ৪, পর্তুগাল ১, স্লোভেনিয়া ১, বাহরাইন ১, পাকিস্তান ১, হংকং ৪, ইরাক ৯, মিশর ৪, থাইল্যান্ড ১, আয়ারল্যান্ড ২, ভারত ২, স্যান ম্যারিনো ৭, লেবানন ৩, ইন্দোনেশিয়া ৫, পোল্যান্ড ৪, ফিলিপাইন ১২, তাইওয়ান ১, লাক্সেমবার্গ ১, আর্জেন্টিনা ২, আলবেনিয়া ১, বুলগেরিয়া ২, হাঙ্গেরি ১, গুয়াটেমালা ১, কেইম্যান আইল্যান্ড ১, পানামা ১, আলজেরিয়া ৪, ইকুয়েডর ২, মরোক্কো ১, ইউক্রেইন ১, গিয়ানা ১, সুদান ১, আজারবাইজান ১ জন করে মারা গেছে।
গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাসের আবির্ভাব ঘটে। প্রতিনিয়ত এই ভাইরাসে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। এখনো কোনো টিকা বা প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে পারেনি বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জনবহুল স্থানে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে এবং পোষা প্রাণির সংস্পর্শ এড়িয়ে যেতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।
বাংলাদেশের কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে সন্দেহ হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের হট লাইন ০১৯৪৪৩৩৩২২২ নম্বরে যোগাযোগের জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
করোনাভাইরাস সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বা অন্য কোনোভাবে মিথ্যা বা ভুল তথ্য প্রচার নজরে আসলে তথ্য অধিদপ্তরের সংবাদকক্ষের ফোন নম্বর ৯৫১২২৪৬, ৯৫১৪৯৮৮, ০১৭১৫২৫৫৭৬৫, ০১৭১৬৮০০০০৮ এবং ইমেইল: piddhaka@gmail.com/piddhaka@yahoo.com অথবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ঢাকা/জেনিস