আন্তর্জাতিক

লকডাউনে পড়ার জন্য দেড় কিলোমিটার পাড়ি

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ইতালির সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। পড়াশোনা আর সহপাঠীদের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এখন ইন্টারনেট। কিন্তু ঘরেও যে নেটওয়ার্ক নেই! শেষ পর্যন্ত বাড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে মিললো নেটওয়ার্ক। সেখানেই নিজের ট্যাব নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেছে ১২ বছরের গিউলিও জিওভান্নি।

গিউলিও জিওভান্নির পড়ার পরিবেশ দেখলে অবশ্য অনেকের হিংসা হবে। কারণ তার পড়ার টেবিলটি বসানো হয় পাহাড়ের ওপর। একদিকে আছে আঙ্গুরের বাগান, আরেকদি জলপাই গাছের ছায়া। আর দেহের ওপর নরম স্পর্শ বুলিয়ে যায় স্নিগ্ধ রোদ।

বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে গিউলিও বলেছে, ‘দিনে আমার পড়ার সময় বাড়ি থেকে একটি টেবিল, বসার টুল, ট্যাবলেট ও পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব নিয়ে মা আর আমি গাড়িতে করে এখানে আসি। আমরা সবকিছু প্রস্তুত করে পড়ার জন্য তৈরি হয়ে যাই।’

ছোট টাস্কানি শহর স্কানসানোতে বাস করে গিউলিও। বাড়ির ফোন কয়েক মাস ধরে নষ্ট থাকায় সেখানে ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া সম্প্রতি সেখানে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কও মিলছে না।

গিউলিও’র মা বলেন, ‘ওর পড়ার জন্য আমাদেরকে এখানে আসতে হয়। এখানে অন্তত আমরা ইন্টারনেট পাই।’

মাধ্যমিক স্কুলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী গিউলিওর ভাষ্য, ‘আমি স্কুলে যাওয়া পছন্দ করি। কারণ সেখানে অন্তত আমি আমার বন্ধুদের দেখা পাই। এখানে আমি তাদেরকে কেবল স্ক্রিনে দেখতে পাই। অন্তত তাদের চেহারতো দেখতে পাই।’

গিউলিও’র মা জানান, তিনি ফোন কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন। কারণ বাড়ির ফোন ঠিক করতে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ সময় নিচ্ছে। এর আগ পর্যন্ত গিউলিওকে তিনি এখানে নিয়ে আসবেন। ঢাকা/শাহেদ