আন্তর্জাতিক

কঠিন-জ্বালানি চালিত রকেট উৎক্ষেপণ করলো দ. কোরিয়া

মহাকাশ অভিযানের উদ্যোগ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া প্রথমবারের মতো কঠিন- জ্বালানি চালিত একটি রকেটের সফল উৎক্ষেপণ করেছে। দেশটির সরকারের দাবি, এর মাধ্যমে তারা মহাকাশে নজরদারিতে গুরুত্বপূর্ণ সফলতা অর্জনে সক্ষম হল। প্রতিবেশি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে টানটান উত্তেজনার মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার এমন উদ্যোগের কথা জানা গেল।

বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম একথা জানায়।

দক্ষিণ কোরিয়া জানায়, ২০১৭ সালের পর গত বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) উত্তর কোরিয়া একটি আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে। এর ছয়দিন পর বুধবার (৩০ মার্চ) সিউল কঠিন-জ্বালানি চালিত রকেট মহাকাশে পাঠালো।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সিউল থেকে ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমের উপকূলীয় এলাকা তিয়ান থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়।  এ সময় দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সুহ উকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ছবিতে রকেটটিকে মহাকাশে একটি ডামি স্যাটেলাইট স্থাপন করতে দেখা গেছে।

সিউলের মতে, রকেটের সফল পরীক্ষা দক্ষিণ কোরিয়ার স্বাধীন মহাকাশ-ভিত্তিক পুনরুদ্ধার এবং নজরদারি ক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ হিসাবে চিহ্নিত করা হবে।

বর্তমানে মহাকাশে দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব কোনো সামরিক উপগ্রহ নেই। ফলে উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত গবেষণাগার ও সামরিক অবস্থান সম্পর্কে জানতে তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচর উপগ্রহের উপর নির্ভর করতে হয়।

চলতি বছরের শুরু থেকেই পিয়ংইয়ং (উত্তর কোরিয়ার রাজধানী) একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করছে। দেশটির এমন পদক্ষেপ কোরিয়া উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। এরই মধ্যে গত সপ্তাহে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন দেশটি আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে। জাতিসংঘের নির্দেশনা অমান্য করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করায় সে সময় যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।  

সূত্র: আল-জাজিরা