আন্তর্জাতিক

আজই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারে যুক্তরাজ্য

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আজ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির ঘোষণা দিতে পারেন। 

রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলের দিকে এ সংক্রান্ত বিবৃতি প্রকাশ করতে পারে স্টারমার প্রশাসন। খবর বিবিসির। 

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে গত জুলাইয়ে যুক্তরাজ্য জানিয়েছিল, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।

জুলাইয়ে স্টারমার জানিয়েছিলেন, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যদি ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধানের পথে টেকসই শান্তিচুক্তির জন্য যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়, তবে যুক্তরাজ্য তার অবস্থান পরিবর্তন করবে।

যুক্তরাজ্য ছাড়াও ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, পর্তুগাল ও লুক্সেমবার্গ। সেই অনুযায়ী দেশগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সরকারি সূত্র বলছে, গত কয়েক সপ্তাহে গাজার পরিস্থিতি তীব্রভাবে অবনতি হওয়ায় এবং সেখানে অনাহার ও সহিংসতার চিত্র সামনে আসায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে নৈতিক দায়বদ্ধতার কথাই প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা গাজার সাম্প্রতিক স্থল অভিযানকে ‘প্রলয়ঙ্কর’ উল্লেখ করেছেন। একই সময়ে জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন এই সপ্তাহে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ উপস্থাপন করে, যা ইসরায়েল ‘বিকৃত ও মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

যুক্তরাজ্যের বৈদেশিক নীতিতে এই রদবদলকে ইসরায়েলি সরকার, কিছু কনজারভেটিভ নেতা ও জিম্মিদের পরিবার তীব্রভাবে সমালোচনা করেছেন। 

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, এমন পদক্ষেপ ‘সন্ত্রাসকে পুরস্কৃত করা’।

কনজারভেটিভ নেতা কেমি বেইডনক ও কয়েকজন জিম্মির আত্মীয়রা বলেছেন, জিম্মিদের মুক্তির আগে স্বীকৃতি দিলে তা কথিতভাবে মুক্তি প্রক্রিয়া জটিল করবে; বর্তমানে হামাসের হাতে অবশিষ্ট ৪৮ জন জিম্মির মধ্যে আনুমানিক ২০ জন জীবিত থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং দু’পক্ষই ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি শাসনে হামাসের কোনো ভূমিকা থাকবে না বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন।