মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলাকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, দেশটি যদি অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ‘বন্দি’ ও ‘মানসিক প্রতিষ্ঠান থেকে আসা লোকদের’ ফিরিয়ে না নেয়, তাহলে ভেনিজুয়েলাকে ভয়াবহ ‘পরিণতি ভোগ’ করতে হবে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে বলেন, “আমি চাই ভেনেজুয়েলা অবিলম্বে সব বন্দী ও মানসিক প্রতিষ্ঠান থেকে আসা লোকদের গ্রহণ করুক।”
ট্রাম্পের দাবি, ভেনেজুয়েলা ইচ্ছাকৃতভাবে এসব মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছে এবং তাদের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ‘হাজার হাজার মানুষ গুরুতরভাবে আহত হয়েছে, এমনকি নিহতও হয়েছে।’ যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি।
পোস্টে ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেন, “এখনই তাদেরকে আমাদের দেশ থেকে ফিরিয়ে নিন, নইলে আপনাকে যে মূল্য দিতে হবে তা ভয়াবহ হবে!”
ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার সরকারের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নিতে পারেন, তা নির্দিষ্ট না করেই এই হমকি দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এর ঠিক একদিন আগে তিনি ক্যারিবিয়ান সাগরে ভেভেজুয়েলার একটি কথিত মাদক পাচারকারী নৌকায় নতুন হামলার ঘোষণা দেন। সেই হামলায় তার ভাষায় তিনজন ‘মাদক সন্ত্রাসী’ নিহত হয়। ভেনিজুয়েলা এই পদক্ষেপকে ক্যারিবিয়ানে 'অঘোষিত যুদ্ধ' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং জাতিসংঘের কাছে আনুষ্ঠানিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
চলতি সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের অন্তত তিনটি হামলায় মোট ১৭ জন নিহত হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে ‘কার্টেল অব দ্য সানস’ নামের একটি মাদকচক্র পরিচালনার অভিযোগ এনে তার গ্রেপ্তারে ৫ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। তবে মাদুরো এসব অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেছেন।
গত দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ক্যারিবিয়ানে ৭টি যুদ্ধজাহাজ এবং একটি পারমাণবিক সাবমেরিন মোতায়েন করেছে। এতে রয়েছে ৪,৫০০ জনের বেশি নৌসেনা ও মেরিন। জাহাজগুলোতে হেলিকপ্টার ও টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের সুবিধা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পি-এইট গোয়েন্দা বিমান এলাকায় টহল দিচ্ছে ও আন্তর্জাতিক জলসীমায় নজরদারি চালাচ্ছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সামরিক অভিযান মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ। তবে তিনি এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখাতে পারেননি যে, যেসব নৌকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, সেগুলো সত্যিই মাদক পরিবহন করছিল।
এদিকে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো রাজধানী কাছাকাছি সিউদাদ কারিবিয়া থেকে সেনা, পুলিশ ও বেসামরিক মিলিশিয়া মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, দেশের ২৮৪টি ‘যুদ্ধফ্রন্ট’ স্থানে বাহিনী মোতায়েন করা হবে। মাদুরো বলেন, “প্রয়োজন হলে আমরা সশস্ত্র লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।”