ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের অপহরণ করা হয়েছে।
বিবিসির মুন্ডো এডিটর (স্প্যানিক বিভাগের সম্পাদক) ড্যানিয়েল গার্সিয়া মার্কো তার বিশ্লেষণে বলছেন, বিরল এই ঘটনা প্রবাহের মধ্যে একটি বিষয় সবার নজরে আসে; আর তা হলো ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য।
মাদুরোকে গ্রেপ্তারের (অপহরণ) বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলার তদারকি করবে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি একটি রূপান্তরকালীন ব্যবস্থার কথা বললেও নির্বাচন বা ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতাদের ভূমিকা নিয়ে কোনো কথা বলেননি।
ট্রাম্প জানান, মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেবেন। তার কথায় নেতৃত্বে পরিবর্তন আসবে, তবে সরকারের কাঠামোয় পরিবর্তন হবে না।
পরে ট্রাম্পকে মাচাদো সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি অনেককে চমকে দেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী হলেও মারিয়া কোরিনা মাচাদোর প্রতি ভেনেজুয়েলার সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সমর্থন বা সম্মান নেই।
ড্যানিয়েল গার্সিয়া মার্কো লিখেছেন, মাদুরো ও চাভিস্তের সরকার উৎখাতের দাবিতে বিরোধীরা বহু বছর ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। ট্রাম্পের ঘোষণায় তারা তাদের প্রত্যাশার শুধু আংশিক পূরণ দেখতে পাচ্ছে।
এতে প্রশ্ন উঠছে, মাচাদো ও বিরোধীদের অবস্থান এখন কোথায়?
মার্কো জানাচ্ছেন, দেশ ছাড়ার পর মাচাদো বর্তমানে নোবেল পুরস্কার গ্রহণের জন্য অসলোতে অবস্থান করছেন। আর ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর যাকে অনেকেই প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত মনে করেন, সেই এদমুন্দো গনসালেজ শনিবার নীরব ছিলেন এবং এখনো স্পেনে রয়েছেন।
বিরোধীদের বহু প্রতীক্ষিত রাজনৈতিক রূপান্তরকালে আপাতত মাচাদো বা গনসালেজ কেউই নেতৃত্ব দেবেন না। বরং এই রূপান্তর প্রক্রিয়ার তদারকি করবেন ট্রাম্প, আর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ডেলসি রদ্রিগেজ।
মার্কোর মতে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রাম্প একটি সুশৃঙ্খল ও স্থিতিশীল রূপান্তর নিশ্চিত করতে চাইছেন, যার লক্ষ্য ভেনেজুয়েলা থেকে নতুন করে অভিবাসনের ঢল ঠেকানো।
এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর জন্য তেল চুক্তি দাবি করতে পারেন ট্রাম্প। মাদুরো অনুগামীরা সোমবার (৫ জানুয়ারি) নতুন সরকারে শপথ নেবেন। তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলায় ঢুকতে দেওয়ার চুক্তিকে অনেকটা সহজ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে আপাতত নির্বাচন কিংবা ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ভোটের প্রতিফলন হিসেবে বিরোধীদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের কোনো আলোচনা নেই।
মাদুরো আর ক্ষমতায় নেই। কিন্তু বিরোধীরা যে পূর্ণাঙ্গ সরকার পরিবর্তনের স্বপ্ন বহু বছর ধরে দেখে আসছেন, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।