রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখায় ভারতসহ আরো কয়েকটি দেশের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক আরোপ করার একটি বিলে অনুমোদন দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রিপাবলিকান সিনেটর ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ লিন্ডসে গ্রাহাম এই বিলটি প্রস্তুত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন এই বিলটি যদি মার্কিন সিনেটে পাস হয়, তাহলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে সেসব দেশের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে, যারা জেনেশুনে রাশিয়ার তেল বা ইউরেনিয়াম কিনছে ও পুতিনকে যুদ্ধের অর্থ জোগানে মদত দিচ্ছে। ভারত, চীন, ব্রাজিলসহ আরো কয়েকটি দেশ রাশিয়ার বাণিজ্য অংশীদার।
মস্কোকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার লক্ষ্যেই দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যে এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের রাশিয়ার সঙ্গে চলমান আলোচনা আরো ফলপ্রসূ হয়।
সিনেটর গ্রাহাম জানান, বুধবার হোয়াইট হাউজে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে দেখা করেন এবং দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে প্রক্রিয়াধীন এই বিলটিতে ট্রাম্প পূর্ণ সমর্থন দেন। হোয়াইট হাউজের একজন কর্মকর্তাও বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের কাছে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এক বিবৃতিতে গ্রাহাম বলেন, “এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি পদক্ষেপ। ইউক্রেন যখন শান্তির জন্য ছাড় দিচ্ছে, তখন পুতিন কেবল বড় বড় কথা বলছেন এবং নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে চলেছেন।”
গ্রাহাম আরো জানান, আগামী সপ্তাহেই বিলটির ওপর ভোট হতে পারে, যদিও এটি কতটা নিশ্চিত তা এখনও স্পষ্ট নয়। সিনেট আগামী সপ্তাহে সরকারি অর্থায়ন সংক্রান্ত একটি বিল নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর পরের সপ্তাহে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র দিবস উপলক্ষে সিনেট অধিবেশনে বিরতি থাকবে।
রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার জেরে যুক্তরাষ্ট্র গত বছর ভারতীয় পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশ করেছিল। ওয়াশিংটনের চাপে ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেলা কেনা কমালেও পুরোপুরি বন্ধ করেনি। এটি নয়াদিল্লিতে একটি ‘কৌশলগত অবস্থানে’ রেখে দিয়েছে।
এর আগে গত রবিবার (৪ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদি একজন ভালো মানুষ। কিন্তু তিনি জানেন আমি খুশি নই এবং আমাকে খুশি করাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”
ভারতের রুশ তেল কেনা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “তারা রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করে এবং আমরা তাদের ওপর খুব দ্রুত শুল্ক বাড়িয়ে দিতে পারি।”
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ভারত সরকার দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি সপ্তাহে রুশ ও মার্কিন তেল ক্রয়ের তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে।
শুল্ক আরোপের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদি অন্তত তিনবার ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। গত মাসে ভারতের বাণিজ্য সচিব মার্কিন বাণিজ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করলেও আলোচনা এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
‘রাশিয়া স্যাঙ্কশন বিল’ সম্পর্কে বিস্তারিত যা জানা গেছে
রিপাবলিকান সিনেটর গ্রাহাম ও ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালের যৌথভাবে লেখা এই বিলটি মার্কিন প্রশাসনকে রাশিয়ার তেল, গ্যাস, ইউরেনিয়াম এবং অন্যান্য রপ্তানি পণ্য ক্রয়কারী দেশগুলোর ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো রাশিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ডের আর্থিক উৎস বন্ধ করে দেওয়া।
হোয়াইট হাউজ এর আগে নিষেধাজ্ঞার এই বিলে কিছু সংশোধন ও কিছুটা নমনীয়তা চেয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত কোনো পরিবর্তন আনা হয়েছে কি না তা এখনো জানা যায়নি।
ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় চার বছরের পুরোনো যুদ্ধ বন্ধ করতে একটি শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে। এই বিশেষ প্রচেষ্টায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনার প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছেন।