ইরান সরকারের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনী খুব দ্রুত অভিযান শুরু করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর আল-জাজিরার।
স্থানীয় সময় রবিবার (১১ জানুয়ারি) রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর তেহরানের দমন-পীড়নের বিষয়টি আমরা খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। মার্কিন সামরিক বাহিনী এটি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আমরা খুবই কঠোর কিছু পদক্ষেপ নিয়ে ভাবছি। আমরা দ্রুতই একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাব।”
ট্রাম্প দাবি করেন, সামরিক অভিযানের হুমকির পর ইরানের নেতৃত্ব ‘আলোচনার’ আহ্বান জানিয়েছে এবং বর্তমানে একটি ‘বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে’। তবে তিনি আরো যোগ করেন, “বৈঠকের আগেই আমাদের ব্যবস্থা নিতে হতে পারে।”
ট্রাম্পের এই সবশেষ হুমকির বিপরীতে ইরানের নেতারাও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবাফ বলেন, “ইরানে হামলা হলে অধিকৃত অঞ্চলগুলো (ইসরায়েল) এবং যুক্তরাষ্ট্রের সব ঘাঁটি ও জাহাজ আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে।”
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষের দিকে অর্থনৈতিক সঙ্কটের প্রতিবাদে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। চলতি সপ্তাহে দেশটির প্রায় প্রত্যেকটি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শুরুতে প্রতিবাদ সমাবেশগুলো জীবনযাত্রার উচ্চমূল্য ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, পরে তা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে শাসন ক্ষমতায় থাকা ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনরোষে রূপ নেয়।
ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, চলমান বিক্ষোভে এ পর্যন্ত অন্তত ১০৯ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। তবে কতজন বিক্ষোভকারী প্রাণ হারিয়েছেন তা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি। অন্যদিকে বিদেশের অবস্থানরত বিরোধী অ্যাক্টিভিস্টরা দাবি করছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে কয়েক শ’ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
এদিকে পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠীগুলোর মতে, ইরানজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ টানা ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
ইরানের এই অস্থিরতা এমন এক সময়ে ঘটছে যখন ট্রাম্প খুবই আক্রমণাত্মক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছেন। তিনি ইতিমধ্যে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করেছেন এবং গ্রিনল্যান্ড কেনা বা বলপূর্বক দখলের বিষয়ে আলোচনা করছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরানের বিষয়ে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনার জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, এসব বিকল্পের মধ্যে রয়েছে সামরিক হামলা, গোপন সাইবার অস্ত্রের ব্যবহার, নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়ানো এবং সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা প্রদান।