থাইল্যান্ডের সামরিক বাহিনী এখনো কম্বোডিয়ার সীমান্ত এলাকাগুলো দখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রাক সোখোন। তিনি বলেন, সীমান্তের কিছু বেসামরিক এলাকা কাঁটাতার ও শিপিং কন্টেইনারের মাধ্যমে ব্যারিকেড দিয়ে দখলে রেখেছে থাইল্যান্ড, এ ঘটনা যুদ্ধবিরতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রয়টার্সকে বলেন, “থাই সামরিক বাহিনীর অনুপ্রবেশের কারণে বিতর্কিত সীমান্তের প্রায় ৪ হাজার কম্বোডীয় পরিবার তাদের ঘরে ফিরতে পারছে না”। গত ডিসেম্বরে একটি চুক্তির মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে কয়েক সপ্তাহের ভয়াবহ সীমান্ত সংঘর্ষ বন্ধ হয়েছিল।
মঙ্গলবার রাজধানী নমপেন থেকে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রাক সোখোন বলেন, “থাই সামরিক বাহিনী এখনো কম্বোডিয়ার অনেক ভেতরে অঞ্চলগুলো দখল করে আছে।” তিনি অনুপ্রবেশের স্থান হিসেবে অন্তত চারটি সীমান্ত এলাকার নাম উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, “পরিস্থিতি এখন শান্ত আছে, তবে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। তাই আমরা আশা করি থাইল্যান্ড যুদ্ধবিরতির পূর্ণ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।”
তবে এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে থাইল্যান্ডের সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তারা দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১২ জানুয়ারির একটি বিবৃতির দিকে ইঙ্গিত করেন, যেখানে কম্বোডিয়ার অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।
থাইল্যান্ডের মন্ত্রণালয় জানায়, “যুদ্ধবিরতির পর বর্তমান অবস্থানে সৈন্য বজায় রাখা মূলত উত্তেজনা হ্রাসের সম্মত পদক্ষেপগুলোর সরাসরি বাস্তবায়ন। একে অঞ্চল দখল হিসেবে ভুল ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই।”
যুদ্ধবিমানের মহড়া, রকেট হামলা ও কামানের গোলাবর্ষণের মাধ্যমে দুই প্রতিবেশী দেশ গত ডিসেম্বরে ২০ দিন ধরে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল। এর আগে গত জুলাই মাসেও সীমান্ত সংঘর্ষে জড়িয়েছিল, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে বন্ধ হয়।
গত ডিসেম্বরের সংঘাতে ১০১ জন নিহত এবং উভয় পক্ষের পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। থাইল্যান্ড ও কম্বোয়ার মধ্যে সীমান্ত বিরোধ শতাব্দী পুরোনো, গত বছরের জুলাই ও ডিসেম্বরে তা প্রাণঘাতী সংঘাতে রূপ নেয়।
কম্বোডিয়ালর পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রাক সোখোন জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কম্বোডিয়া সীমান্ত চিহ্নিত করার দ্বিপাক্ষিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ‘জয়েন্ট বাউন্ডারি কমিশন’-এর বৈঠকের জন্য থাইল্যান্ডকে অনুরোধ করেছে, কিন্তু ব্যাংকক এখনো তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
তিনি বলেন, “দখলকৃত গ্রামের বিষয়টি আমাদের কাছে অগ্রাধিকার পাবে কারণ আমাদের জনগণকে ঘরে ফেরার সুযোগ করে দিতে এই সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।”
থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আলোচনার জন্য অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াগুলো চূড়ান্ত করছে। ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে এই আলোচনা শুরু হবে।
২৭ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সীমান্তের উভয় পাশে সৈন্য না বাড়ানোর পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত বেসামরিক নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সম্মতি হয়েছিল। সর্বশেষ এই যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা ছিল চীন।
কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রাক সোখোন বলেন, “দুই দফার এই লড়াই বেসামরিক জীবন ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করেছে; সেতু, স্কুল, ধর্মীয় উপাসনালয়, সড়ক ও ভবন ধ্বংস হয়েছে।”