যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়া নয় বরং ইউক্রেনই সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি আটকে রেখেছে। তার এই বক্তব্য ইউরোপীয় মিত্রদের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত, যারা ক্রমাগত যুক্তি দিয়ে আসছেন যে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে মস্কোর আগ্রহ খুব কম।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্থানীয় সময় বুধবার (১৪ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া একটি একান্ত সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেন।
ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার প্রায় চার বছরের পুরোনো এই যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ ব্যাপারে কিছুটা কম প্রস্তত।
রুশ প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন,“"আমি মনে করি তিনি (পুতিন) একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত। আমার মনে হয় ইউক্রেন চুক্তির ব্যাপারে কম প্রস্তুত।”
কেন মার্কিন নেতৃত্বাধীন আলোচনা এখনও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের এই বৃহত্তম স্থল সংঘাতের সমাধান করতে পারেনি- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি বলেন: “জেলেনস্কি।”
ট্রাম্পের এই মন্তব্য জেলেনস্কির প্রতি তার নতুন করে তৈরি হওয়া অসন্তোষের ইঙ্গিত দেয়। এই দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একটি অস্থির সম্পর্ক বিদ্যমান, যদিও ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে তাদের সম্পর্ক কিছুটা উন্নত হয়েছে বলে মনে হচ্ছিল।
ট্রাম্পকে মাঝে মাঝে মার্কিন মিত্রদের চেয়ে পুতিনের কথায় বেশি বিশ্বাস করতে দেখা গেছে, যা ইউক্রেন, ইউরোপীয় রাজধানী এবং মার্কিন আইনপ্রণেতাদের হতাশ করেছে।
গত বছর বেশ কয়েকবার ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার পর, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল যুদ্ধ-পরবর্তী ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যাতে সম্ভাব্য কোনো চুক্তির পর রাশিয়া পুনরায় আক্রমণ না করে। মোটামুটিভাবে, মার্কিন আলোচকরা রাশিয়ার দাবি মেনে নিয়ে ইউক্রেনকে তার পূর্ব ডনবাস অঞ্চল ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন।
সাম্প্রতিক এই আলোচনাগুলোতে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা নিবিড়ভাবে জড়িত ছিলেন, যা মার্কিন পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। তবে কিছু ইউরোপীয় কর্মকর্তা কিয়েভ, ওয়াশিংটন ও ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে সম্প্রতি আলোচিত হওয়া কিছু শর্ত পুতিন মেনে নেবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছিল যে, উইটকফ এবং কুশনারের মস্কো যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ট্রাম্প রয়টার্সকে বলেছেন, তিনি এমন কোনো সফরের কথা জানেন না।
আগামী সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে তিনি জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করবেন কি না, জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন তিনি করবেন, তবে নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা এখনও হয়নি।
জেলেনস্কি কেন আলোচনায় পিছিয়ে আছেন বলে তিনি মনে করেন- এমন প্রশ্নে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমি শুধু মনে করি তিনি, মানে, সেখানে (চুক্তিতে) পৌঁছাতে সমস্যায় পড়ছেন।”
জেলেনস্কি দীর্ঘদিন থেকেই যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে রাশিয়াকে কোনো ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। তিনি বলেছেন, দেশের সংবিধান অনুযায়ী কোনো জমি ছেড়ে দেওয়ার অধিকার কিয়েভের নেই।