যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে আটক বিক্ষোভকারীর ভাগ্য নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই তিনি জানতে পেরেছেন যে দেশটিতে ‘মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কোনো পরিকল্পনা নেই’। এমন বক্তব্য দিয়ে ইরান ইস্যুতে সুর কিছুটা নরম করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তবে বিক্ষোভকারীদের ওপর তেহরানের সহিংস দমন-পীড়নের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা তিনি এখনও নাকচ করে দেননি। খবর বিবিসির।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউজ থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসন ‘নির্ভরযোগ্য সূত্রে’ জানতে পেরেছে যে ‘ইরানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে এবং সেখানে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই’।
একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ওদিকের (ইরানের) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র’ তাকে এই অগ্রগতির কথা জানিয়েছে। তিনি আরো যোগ করেন যে, তিনি আশা করছেন এই খবরগুলো যেন সত্য হয়।
গত মাসের শেষ দিক থেকে ইরানের খারাপ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশটিতে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয় এবং ইরানজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এরই মধ্যে বিক্ষোভের সময় গ্রেপ্তার হওয়া ২৬ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যুদণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘খুব কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
এরফান সলতানি নামের ওই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড বুধবার (১৪ জানুয়ারি) কার্যকর হওয়ার কথা ছিল বলে তার পরিবার বিবিসি পার্সিয়ানকে জানিয়েছিল। পরবর্তীতে তারা নরওয়েভিত্তিক কুর্দি মানবাধিকার সংস্থা ‘হেঙ্গাও’-কে জানায়, তার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে।
সম্ভাব্য মৃত্যুদণ্ডের খবরের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘ফাঁসির বিষয়টি প্রশ্নের বাইরে’ এবং ‘আজ বা আগামীকাল কোনো ফাঁসি হবে না’।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টের মাধ্যমে ইরানিদের ‘বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার’ আহ্বান জানান এবং প্রতিশ্রুতি দেন যে ‘সাহায্য আসছে’।
গত বৃহস্পতিবার থেকে ইরান সরকার দেশটিতে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে তেহরান দমন-পীড়ন আরো জোরদার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৪৩৫ জন বিক্ষোভকারীর নিহতের খবর জানতে পেরেছে।
এদিকে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, “গত বছরের জুন মাসে আপনি যে ভুল (ইরানে হামলা) করেছিলেন তার পুনরাবৃত্তি করবেন না।”