আন্তর্জাতিক

স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ২১

দক্ষিণ স্পেনে উচ্চগতির দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় ৩০ জনের বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে। খবর বিবিসির।

রেল নেটওয়ার্ক অপারেটর ‘আদিফ’ জানায়, রবিবার (১৮ জানুয়ারি) কর্ডোবা শহরের নিকটবর্তী আদামুজ শহরের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মালাগা থেকে মাদ্রিদগামী একটি দ্রুতগতির ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে পাশের ট্র্যাকে চলে যায়। লাইনচ্যুত ট্রেনটি তখন মাদ্রিদ থেকে উয়েলভাগামী বিপরীতমুখী একটি ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। 

পরিবহনমন্ত্রী পুয়েন্তে জানান, এই ঘটনাটি ‘খুব অদ্ভুত’ বলে মনে হচ্ছে, কারণ ট্রেনটি ট্র্যাকের একটি সোজা অংশে লাইনচ্যুত হয়েছে, যা গত বছরের মে মাসে সংস্কার করা হয়েছিল। দুর্ঘটনার অফিসিয়াল কারণ এখনও জানা যায়নি। তদন্ত শেষ করে কী ঘটেছিল তা নির্ধারণ করতে অন্তত এক মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, দেশটি একটি গভীর বেদনার রাত পার করতে যাচ্ছে।

মালাগা থেকে যাত্রা করা ট্রেনটির পরিচালনাকারী বেসরকারি রেল কোম্পানি ইরিও জানায়, তাদের ট্রেনে প্রায় ৩০০ জন যাত্রী ছিলেন। অন্যদিকে, রেনফে পরিচালিত অন্য ট্রেনটিতে যাত্রী ছিলেন প্রায় ১০০ জন।

উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, ট্রেনের দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষের কারণে বেঁচে যাওয়া মানুষ এবং মরদেহ উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কর্ডোবা ফায়ার সার্ভিসের প্রধান ফ্রান্সিসকো কারমোনা স্প্যানিশ টিভি চ্যানেল আরটিভিই-কে বলেন, “আমাদের এমনকি একজন জীবিত মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য একজন মৃত ব্যক্তিকে সরাতে হয়েছে। এটি অত্যন্ত কঠিন ও জটিল কাজ।”

আদিফ-এর তথ্যমতে, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে ট্রেনটি মালাগা ছাড়ার প্রায় দশ মিনিট পর এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ ও আন্দালুসিয়ার মধ্যে সব রেল পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে এবং সোমবারও তা বন্ধ থাকবে।

ইতালীয় রেল কোম্পানি ফেরোভি ডেলো স্ট্যাটোর একজন মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রেনের ধরন ছিল ফ্রেচিয়া ১০০০, যা সর্বোচ্চ ৪০০ কিমি/ঘণ্টা (২৫০ মাইল প্রতি ঘণ্টা) গতিতে চলতে সক্ষম।

এর আগে ২০১৩ সালে, উত্তর-পশ্চিম স্পেনের গ্যালিসিয়াতে স্পেনের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ উচ্চগতির ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছিল, ওই দুর্ঘটনায় ৮০ জন নিহত এবং ১৪০ জন আহত হয়েছিলেন।