আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের গাজা ‘বোর্ড অব পিস’ প্রত্যাখ্যান করল ফ্রান্স

গাজা পুনর্গঠন ও যুদ্ধ-পরবর্তী শাসনব্যবস্থা তদারকির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি বোর্ডে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ফ্রান্স। খবর রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের কয়েক ডজন নেতার কাছে এই বোর্ডে যোগদানের আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছে। জানা গেছে, এতে তিন বছরের সদস্যপদ এবং ১০০ কোটি ডলারের বিনিময়ে স্থায়ী সদস্যপদ লাভের সুযোগ রাখা হয়েছে। এই সংস্থাটি একটি অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট প্রশাসনের পাশাপাশি কাজ করবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোট বলেন, “প্যারিসকে অবশ্যই ‘না’ বলতে হবে কারণ, বর্তমানে এই শান্তি বোর্ডের সনদে গাজার বাইরেও অন্যান্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা জাতিসংঘ অনুমোদিত শান্তি পরিকল্পনার পরিধিকে ছাড়িয়ে গেছে।”

বারোট আরো বলেন, “বর্তমান খসড়া অনুযায়ী এই সনদটি ফ্রান্সের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির প্রতিবেদন অনুসারে, ফ্রান্সের মূল আপত্তির জায়গা হলো ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাটি অনেক বেশি উচ্চাভিলাষী কিন্তু অস্পষ্ট, যা জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নিয়মাবলীকে পাশ কাটিয়ে মার্কিন আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বলে প্যারিস মনে করছে।

হোয়াইট হাউজ দাবি করেছে, গত নভেম্বরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অনুমোদিত ২০ দফার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এই বোর্ড ‘গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা’ পালন করবে। বোর্ডের নির্বাহী শাখায় থাকবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের জামাতা ও আলোচক জ্যারেড কুশনার।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিতব্য একটি অর্থনৈতিক ফোরামে ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের স্বাক্ষর প্রত্যাশা করছেন।

বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আই২৪নিউজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বর্তমান মনোভাবকে ‘অত্যন্ত আতঙ্কিত ও সন্দিহান’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নীতিগতভাবে এই বোর্ড গঠনের সমর্থন করলেও স্বীকার করেছেন যে, এ বিষয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

ক্রেমলিন জানিয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকেও এই শান্তি বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছেন।