মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘আন্তর্জাতিক গুন্ডা’, ‘নিপীড়ক’ এবং ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেখা সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রেসিডেন্ট’ বলে অভিহিত করেছেন এক ব্রিটিশ নেতা। মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেছেন।
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের তৃতীয় বৃহত্তম দল লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভি পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে যুক্তরাজ্য এবং তার ইউরোপীয় মিত্রদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের বাণিজ্য শুল্ক-সম্পর্কিত হুমকির প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছিলেন।
গত সপ্তাহে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে বিরোধিতা করা এবং ওই আর্কটিক দ্বীপে সামরিক মহড়ায় সেনা পাঠানোর কারণে ন্যাটোভুক্ত আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন।
উচ্চ উত্তেজনাপূর্ণ অধিবেশনে সরকারের উদ্দেশে ভাষণে এড ডেভি বর্তমান বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক পরিবেশকে ‘অবিশ্বাস্যভাবে গুরুতর মুহূর্ত’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আমেরিকান প্রেসিডেন্টকে অপ্রয়োজনীয় আগ্রাসনের জন্য অভিযুক্ত করেছেন এবং সতর্ক করেছেন যে দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক ‘বিশেষ সম্পর্ক’ এখন ‘প্রায় ছিন্নভিন্ন।’
ডেভি বলেছেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একজন আন্তর্জাতিক গুন্ডা হিসেবে কাজ করছেন। তিনি একজন মিত্রের সার্বভৌমত্ব পদদলিত করার হুমকি দিচ্ছেন এবং ন্যাটোকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের হুমকি দিচ্ছেন।”
সহজ উপমা হিসেবে ট্রাম্পকে একজন ধর্ষক হিসেবেও বর্ণনা করেছেন ডেভি। তার মতে ট্রাম্প ‘মনে করেন প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে তিনি যা ইচ্ছা তা দখল করতে পারবেন।’
তার দাবি, এই বিরোধ আমেরিকার প্রধান প্রতিপক্ষ রাশিয়া এবং চীনকে উপকৃত করছে - ‘তাকে উৎসাহিত করার একমাত্র ব্যক্তি হলেন ভ্লাদিমির পুতিন এবং শি জিনপিং।’
তিনি যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির সরকার এবং পূর্ববর্তী রক্ষণশীল শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে ‘ট্রাম্পকে খুশি করার, তাকে তোষামোদ করার, তাকে প্রশংসিত করার’ অভিযোগ করেছেন। ডেভি যুক্তি দিয়েছেন, এই নীতি ব্যর্থ হয়েছে এবং যুক্তরাজ্যকে এখন ‘তার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো অথবা তার ক্রিপ্টো অ্যাকাউন্টে কয়েক বিলিয়ন ডলার’ ঘুষ দেওয়ার মধ্যে যেকেনো একটি বেছে নিতে হবে।