আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশকে ছাড়াই শুরু কলকাতা বইমেলা

বাংলাদেশকে ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় বছরের মত শুরু হলো  ‘আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা-২০২৬।’ বৃহস্পতিবার বিকেলে কলকাতার কাছেই সল্টলেকের বইমেলা প্রাঙ্গণে ৪৯ তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। বইমেলায় এই প্রথম ফোকাল থিম কান্ট্রি হিসেবে অংশগ্রহণ করছে আর্জেন্টিনা।

মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত ম্যারিয়ানো কাউসিনো, আর্জেন্টিনার বিখ্যাত লেখক গুস্তাভো ক্যাঞ্জব্রে, পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত সাহিত্যিক স্বপ্নময় চক্রবর্তী, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, সুজিত বসু, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, বইমেলার আয়োজক কমিটি ‘কলকাতা বুকসেলার্স এন্ড গিল্ড’এর সভাপতি সুধাংশু শেখর দে, গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চ্যাটার্জী। 

এবারের বইমেলায় আর্জেন্টিনা, ব্রিটেন, জার্মানি, পেরু, কোস্টারিকা, ইউক্রেন, নেপালসহ প্রায় ২০টি দেশ অংশগ্রহণ করছে।  তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে গত বছরের মত এ বছরও মেলায় অনুপস্থিত বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন। যদিও দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর এই বছর মেলায় ফিরেছে চীনের প্যাভিলিয়ন। 

বিভিন্ন দেশ ছাড়াও দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, অসম, ওড়িশা, ত্রিপুরার মতো দেশটির বিভিন্ন রাজ্যের প্রকাশনা সংস্থারাও বইমেলায় অংশগ্রহণ করেছে। মেলা চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। দুপুর ১২  থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে বইমেলার প্রবেশদ্বার।

বইমেলায় বাংলাদেশের প্যাভেলিয়ান না থাকা প্রসঙ্গে এদিন ব্যাপক আক্ষেপ প্রকাশ করেন বাংলাদেশের বইপ্রেমীরা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অরিন্দম সরকার বইমেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিনই বাংলাদেশের  অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে চরম আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। বর্তমান এই সময়টা খুবই উদ্বেগের। বাংলাদেশের অনেক ভালো ভালো লেখক রয়েছে যাদের বই থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।”

হিসাব বলছে, কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় অংশগ্রহণকারী বিদেশী প্যাভিলিয়নগুলোর মধ্যে বইপ্রেমীদের আকর্ষনের দিক থেকে কিংবা বাণিজ্যিকভাবে বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন সবথেকে বেশি সফল। 

শিক্ষাবিদ অলোকনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বাংলাদেশের প্যাভেলিয়ান নেই এই বিষয়টাই সব থেকে বেশি আমাকে আশ্চর্য করেছে। বইমেলায় বাংলাদেশের বই এলে কলকাতার প্রগতিশীল মানুষরা কখনোই আপত্তি জানাতো না। বাংলাদেশের এমন অনেক লেখক আছে যাদের অসম্ভব জ্ঞান , শিক্ষা থেকে আমরা বঞ্চিত হব। আসলে এদের (আয়োজকদের) এমন উদ্দেশ্য ছিল না যে বাংলাদেশের বই আসবে না। তাদের মনে হয়েছে বাংলাদেশের প্রকাশকরা মেলায় অংশগ্রহণ করলে কিছু ঝামেলা হতে পারে। পরপর দু'বছর হলো তাই মেলায় বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করছে না। আমরা বাংলাদেশের বই পেতে চাই বাংলাদেশও আমাদের লেখা বই পেতে চায়। আমাদের আদান-প্রদান না থাকলে শিক্ষার মনন বাড়বে না।”

বইপ্রেমী মনোজ বিশ্বাস বলেন, “বইমেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করার বিষয়টি সম্ভবত রাজনৈতিক কারণঘটিত। সমৃদ্ধশালী হওয়ার একটা জায়গা ছিল সেখান থেকে নিঃস্ব হলাম।”

বইমেলার আয়োজক সংস্থা পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের সম্পাদক সুধাংশু শেখর দে বলেন, “আজকে বইমেলার উদ্বোধন হলো। বাংলাদেশ গত বছরও আসতে পারেনি ,এই বছরও তারা আসতে পারেননি। আমরা এবিষয়ে কিছুই করতে পারিনি। চেষ্টা করে কিছু করতে পারলামও না। বাধা থাকা উচিত নয়। বই-ভাষা কখনো বাঁধা থাকতে পারে না। বই আদান-প্রদান হয়, বই আসে বই যায়। কিন্তু প্রত্যক্ষভাবে হয়তো বাংলাদেশ পারেনি। পাঠকদের মধ্যে কিছুটা খামতি অবশ্যই থেকেই যাচ্ছে।”

আগামী বছর বাংলাদেশ আসতে পারবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে শতাংশ বাবু জানান, বিষয়টি নিশ্চিত নয় এখনই এই বিষয়ে বলা উচিত হবে না।  

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বইমেলা আমাদের আবেগ, আমাদের সংস্কৃতি। বিশ্ব সাহিত্যে বিশ্ব মিলনমেলায় পরিণত হয় এই বইমেলা। কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা ভারতের মধ্যে এক নম্বর। অন্য দেশেও যথেষ্ট জনপ্রিয়। বইয়ের কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা নেই। বই হল সবার প্রাণ, সবার মান, সম্মান। শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং সাহিত্যে চিরকালীন এবং সার্বজনীন একটি অবদান।”