আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ নিয়ে লুলার বিস্ফোরক মন্তব্য

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের বিকল্প একটি সংস্থা বা ‘নতুন জাতিসংঘ’ তৈরির চেষ্টার অভিযোগ এনেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার নতুন ‍উদ্যোগ ‘বোর্ড অব পিস’ চালু করার কয়েকদিন পরই লুলা এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন। 

শনিবার (২৩ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। 

শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) রিও গ্রান্দে দো সুল-এ দেওয়া এক বক্তৃতায় লুলা বলেন, “জাতিসংঘকে সংস্কার করার পরিবর্তে এখন কী ঘটছে? প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নতুন জাতিসংঘ তৈরির প্রস্তাব দিচ্ছেন যেখানে মালিক হবেন কেবল তিনি নিজেই।”

লুলা আরো বলেন, ট্রাম্প ‘টুইটারের (এক্স) মাধ্যমে বিশ্ব চালাতে চান’। ব্রাজিলের সংবাদপত্র ফোলহা ডি সাও পাওলোর বরাত দিয়ে লুলা বলেন, “এটি অভাবনীয়। প্রতিদিন তিনি কিছু না কিছু বলেন এবং প্রতিদিন বিশ্ব তা নিয়ে আলোচনা করে।”

লুলা বৈশ্বিক বিষয়ে বহুপাক্ষিকতার পক্ষে অবস্থান নেন এবং সতর্ক করে বলেন, “জাতিসংঘের সনদ ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে।”

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে লুলার ফোনালাপের একদিন পর এই মন্তব্য এলো। শি জিনপিং আন্তর্জাতিক বিষয়ে জাতিসংঘের ‘কেন্দ্রীয় ভূমিকা’ রক্ষার জন্য লুলাকে আহ্বান জানিয়েছিলেন।

এমন এক সময়ে এই মন্তব্যগুলো এলো যখন হোয়াইট হাউজ জাতিসংঘের ডজনখানেক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিচ্ছে। ট্রাম্প তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ এজেন্ডার অংশ হিসেবে শুল্ক আরোপ এবং সামরিক হুমকির মাধ্যমে বিশ্ব রাজনীতি ও বাণিজ্যে প্রভাব বিস্তার করছেন, যা ওয়াশিংটনের মিত্রদের মনেও আস্থার সংকট তৈরি করেছে।

গত বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে ট্রাম্প ‘বোর্ড অব পিস’ চালু করেন।

ট্রাম্পের এই সংস্থার সদস্যদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু রয়েছেন, যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে এবং যার বাহিনী গাজায় জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার ৩০০ জনেরও বেশি কর্মীকে হত্যা করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে বলেছিল যে ‘বোর্ড অব পিস’ গাজায় ইসরায়েলের দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা বিধ্বংসী যুদ্ধের পর পুনর্গঠন তদারকি করবে। তবে বোর্ডের ১১ পৃষ্ঠার সনদে গাজার কোনো উল্লেখ নেই, যা ইঙ্গিত দেয় যে এর পরিধি আরো বিস্তৃত হতে পারে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘ বর্তমানে মানবিক ও মানবাধিকার কার্যক্রমের জন্য তহবিলের অভাবে ভুগছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো আন্তর্জাতিক সাহায্যের পরিবর্তে সামরিক খাতে অর্থ ব্যয় বাড়াচ্ছে। জাতিসংঘের বার্ষিক বাজেট প্রায় ৩.৭২ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ৮২০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে দেশটি সেই অর্থ পরিশোধে পিছিয়ে আছে।

এর বিপরীতে, ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর খসড়া সনদ অনুযায়ী, কোনো দেশ যদি তিন বছরের বেশি সময় এর সদস্য থাকতে চায়, তাহলে ১০০ কোটি ডলার অনুদান দিতে হবে।