আন্তর্জাতিক

মিনিয়াপলিসে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আরো এক মার্কিন নাগরিক নিহত

যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্কিত অভিবাসন বিরোধী অভিযানে মিনিয়াপলিস শহরে ফেডারেল এজেন্টদের গুলি আরো এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর শহরটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মোতায়েন করা ভারী অস্ত্রে সজ্জিত বাহিনীকে অবলম্বে শহরটি থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা। 

মিনিয়াপলিস পুলিশ বিভাগের প্রধান ব্রায়ান ও’হারা সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয় সময় শনিবার (২৪ জানুয়ারি) একাধিকবার গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ৩৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তি হাসপাতালে মারা যান। ও’হারা বলেন, ওই ব্যক্তি মিনিয়াপলিসের বাসিন্দা এবং একজন মার্কিন নাগরিক ছিলেন। নিহতের বাবা-মা তাকে অ্যালেক্স প্রেত্তি হিসেবে শনাক্ত করেছেন, যিনি পেশায় একজন আইসিইউ নার্স ছিলেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মিনিয়াপলিসে অভিবাসন এনফোর্সমেন্ট এবং অন্যান্য ফেডারেল এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের আগে থেকেই শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গত ৭ জানুয়ারি রেনি গুড নামে এক নারী আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে নিহত হওয়ার পর থেকে সেখানে প্রতিদিন বিক্ষোভ চলছে। এছাড়া গত সপ্তাহেও ফেডারেল এজেন্টরা এক ভেনেজুয়েলান নাগরিককে গুলি করেছিল।

শনিবার মিনেসোটা গভর্নর টিম ওয়ালজ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “এটি অনেক আগেই অভিবাসন এনফোর্সমেন্টের বিষয় থেকে সরে গেছে। এটি আমাদের রাজ্যের মানুষের বিরুদ্ধে একটি সুসংগঠিত নিষ্ঠুরতা। আজ এই অভিযান আরো একটি প্রাণ কেড়ে নিল।”

তবে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছে, ফেডারেল এজেন্ট এমন একজনকে গুলি করেছে যার কাছে হ্যান্ডগান ছিল এবং তিনি নিরস্ত্র হওয়ার প্রচেষ্টায় বাধা দিচ্ছিলেন।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিনেসোটার গভর্নর ওয়ালজ এবং মিনিয়াপলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে-র সমালোচনা করে বলেন যে, তারা তাদের ‘বিপজ্জনক বক্তব্যের মাধ্যমে বিদ্রোহ উস্কে দিচ্ছেন’।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, প্রেত্তি রাস্তায় দাঁড়িয়ে তার সেলফোন দিয়ে এজেন্টদের ভিডিও করছিলেন। এজেন্টরা তার ওপর মরিচের গুঁড়ার স্প্রে নিক্ষেপ করলে তিনি তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এরপর বেশ কয়েকজন এজেন্ট তাকে মাটিতে ফেলে মারধর শুরু করে। তিনি মাটিতে থাকা অবস্থাতেই একজন এজেন্ট অস্ত্র বের করে গুলি চালান।

তদন্তকারী সংস্থা বেলিংক্যাট জানিয়েছে, ফুটেজ দেখে মনে হচ্ছে প্রথম গুলি চালানোর আগেই ওই ব্যক্তির কাছ থেকে গানটি নিয়ে নেওয়া হয়েছিল। মিনিয়াপলিস পুলিশ প্রধান ও’হারা জানান, নিহতের কাছে বৈধ অস্ত্র বহনের লাইসেন্স ছিল।

মিনিয়াপলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, “একটি রাজনৈতিক আখ্যান কি আমেরিকান মূল্যবোধের চেয়েও বড়? ডোনাল্ড ট্রাম্প, দয়া করে এই অভিযান বন্ধ করুন।” মার্কিন সিনেটর অ্যামি ক্লোবুচার এবং প্রতিনিধি ইলহান ওমরও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ওমর একে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন।