ইরানের বিপ্লবী গার্ডের প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের হামলার বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেছেন, তার বাহিনী ‘আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রস্তত ও আঙুল ট্রিগারে রয়েছে।” যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় তিনি এমন হুঁশিয়ারি দিলেন। খবর এপির।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম ‘নূর নিউজ’ জানায়, কমান্ডার জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘যেকোনো ধরনের ভুল হিসাব এড়িয়ে চলার’ বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
পাকপুরের বরাত দিয়ে নূর নিউজ বলেছে, “ইসলামী বিপ্লবী গার্ড এবং প্রিয় ইরান আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রস্তুত। কমান্ডার-ইন-চিফের (সর্বোচ্চ নেতা) আদেশ ও নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের আঙুল এখন ট্রিগারে।”
গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের বড় ধরনের দরপতনের ঘটনায় দেশটিতে দুই সপ্তাহব্যাপী সরকারবিরোধী সহিংস বিক্ষোভের পর থেকেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পশ্চিমা মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, বিক্ষোভের অভিযোগে প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে আটক করেছে ইরান এবং তাদের মধ্যে অনেকেরই মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার তেহরানকে সতর্ক করে বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদেরকে হত্যা ও গ্রেফতারকৃতদের মৃত্যুদণ্ড দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্প দাবি করেন, তার এই হুমকির পর ইরান বিক্ষোভে আটক ৮০০ মানুষের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে। যদিও তিনি এই তথ্যের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলেননি। তবে ইরানের শীর্ষ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মোভাহেদি হক গত শুক্রবার এই দাবি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।
গত বৃহস্পতিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দিকে যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে। ট্রাম্প বলেন, “আমাদের একটি বিশাল নৌবহর ওই দিকে যাচ্ছে এবং সম্ভবত আমাদের সেটি ব্যবহার করতে হবে না।”
গত জুন মাসে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন যুদ্ধবিমানের বোমা হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইরানের যে আলোচনা হয়েছিল, তার কথাও ট্রাম্প উল্লেখ করেন। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে এমন সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন যার কাছে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় চালানো আগের মার্কিন হামলাগুলোকে ‘তুচ্ছ’ মনে হবে।
ইরানে গত কয়েকদিন ধরে নতুন কোনো বিক্ষোভ না হলেও মার্কিন মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, নিহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ইরানের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা সংযোগ বিচ্ছিন্নের কারণে তথ্য পেতে দেরি হচ্ছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানায়, ইরানে নিহতের সংখ্যা ৫ হাজার ২০০ জনে পৌঁছেছে এবং এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, ইরান সরকার গত বুধবার প্রথমবারের মতো নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করেছে, যেখানে তারা ৩ হাজার ১১৭ জন মারা গেছে বলে জানিয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জনকে বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনী হিসেবে উল্লেখ করে বাকিদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।