সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ‘অসংযমী পরাশক্তি’ নিয়ে দেওয়া বক্তব্যে অটল থাকার কথা জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। মার্কিন অর্থমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে কার্নি তার আগের অবস্থান থেকে পিছু হটেছেন। তবে সেই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী। খবর বিবিসির।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কার্নি ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “একদম স্পষ্ট করে বলছি এবং আমি প্রেসিডেন্টকেও (ট্রাম্প) এটা বলেছি যে- দাভোসে আমি যা বলেছি, তা জেনেশুনেই বলেছি এবং সেটাই বুঝিয়েছি।”
এর আগে সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট দাবি করেন, ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে কার্নি তার দাভোস বক্তব্যের কিছু অংশ সংশোধন বা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।”
দাভোসে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বিশ্বজুড়ে শিরোনাম হয়েছিল। সেখানে তিনি যুদ্ধপরবর্তী বিশ্বব্যবস্থায় ‘ফাটল’ ধরানোর জন্য নাম উল্লেখ না করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করেছিলেন। পরদিন ট্রাম্প তার ভাষণে পাল্টা জবাব দিয়ে বলেছিলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই কানাডা টিকে আছে।”
মঙ্গলবার অটোয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্কিন অর্থমন্ত্রীর দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি জানান, সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্টই তাকে ফোন করেছিলেন এবং তাদের মধ্যে ইউক্রেন, ভেনেজুয়েলা, আর্কটিক নিরাপত্তা এবং চীনের সঙ্গে কানাডার সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিসহ নানা বিষয়ে ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে।
এছাড়া কানাডা-মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি ‘ইউএসএমসিএ’ নিয়েও তাদের মধ্যে কথা হয়েছে।
কার্নি বলেন, “দাভোসে আমার ভাষণে স্পষ্ট করে বলেছি যে, মার্কিন বাণিজ্য নীতিতে যে পরিবর্তন ট্রাম্প এনেছেন, কানাডাই প্রথম দেশ হিসেবে সেটি বুঝতে পেরেছে এবং আমরা সেই অনুযায়ী সাড়া দিচ্ছি।”
পরবর্তীতে হাউজ অব কমন্সে বাণিজ্য আলোচনা নিয়ে কথা বলার সময় কার্নি জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইউএসএমসিএ’ পর্যালোচনা শুরু হবে। সংসদকে কার্নি বলেন, “বিশ্ব বদলে গেছে। ওয়াশিংটন বদলে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে এখন স্বাভাবিক বলতে প্রায় কিছুই নেই। এটাই সত্য।”
এদিকে, ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন অর্থমন্ত্রী চীনের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা করার জন্য কানাডার করেছেন। তিনি বলেন, “কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। পূর্ব-পশ্চিম বাণিজ্যের চেয়ে উত্তর-দক্ষিণ (যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা) বাণিজ্যের গুরুত্ব অনেক বেশি।”
মার্কিন অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, “কানাডার প্রধানমন্ত্রীর উচিত তার গ্লোবালিস্ট এজেন্ডা বাদ দিয়ে দেশের জনগণের জন্য যা ভালো তা করা।”
এই মন্তব্যগুলো এমন সময়ে এলো যখন ট্রাম্প কানাডাকে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন, যদি কানাডা চীনা পণ্যগুলোকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়।
কানাডা ও চীনের মধ্যকার চুক্তি অনুসারে, চীন কানাডীয় ক্যানোলা তেলের ওপর শুল্ক ৮৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করেছে।বিনিময়ে কানাডা সীমিত সংখ্যক চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে মাত্র ৬.১ শতাংশ করবে।
কার্নি দাবি করেন, কানাডা চীনের সঙ্গে কোনো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করছে না এবং এ ধরনের কথা কখনো বিবেচনাও করা হয়নি। ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, এটি সম্ভবত ‘ইউএসএমসিএ’ চুক্তি নিয়ে আলোচনার আগে একটি চাপের কৌশল মাত্র।