উভয় পক্ষের স্বার্থকে অক্ষুণ্ণ রেখে ভারতের সঙ্গে কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের উপদেষ্টা এবং দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন। বাংলাদেশের নির্বাচনের মুখে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে তিনি একটি সাক্ষাৎকার দেন। বৃহস্পতিবার সকালে সেটি প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ, সংখ্যালঘুদের উন্নয়ন নিয়ে বিএনপির অবস্থান-সহ বিভিন্ন বিষয়ে মন্তব্য করেন মাহদী।
বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই নয়াদিল্লির সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক টানাপড়েন শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ক্রিকেটের ময়দানেও ছড়িয়ে পড়েছে সেই উত্তেজনা। এ অবস্থায় বিএনপি ক্ষমতায় এলে কি দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক আবার আগের মতো হবে?
এ বিষয়ে মাহদী আমিনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “কিছু সমস্যা অবশ্যই আছে। কিন্তু প্রতিটি সমস্যাই মানুষে-মানুষে যোগাযোগ আরো নিবিড় করে তোলার জন্য একটি সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। আমরা এমন একটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দেখতে চাই যেখানে পরস্পরের উপর বিশ্বাস থাকবে এবং উভয় পক্ষের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। আমরা এমন সম্পর্ক চাই, যেখানে দুই দেশই সমান এবং ন্যায্যভাবে উপকৃত হবে।”
তিনি জানান, শুধু প্রতিবেশী দেশের সঙ্গেই নয়, গোটা বিশ্বের সঙ্গেই মিলেমিশে কাজ করার এক দারুণ সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের কাছে। বাণিজ্য, শিল্প, সংস্কৃতি, শিক্ষা, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে সকল দেশের সঙ্গে কাজ করা যেতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা প্রসঙ্গে তারেক রহমানের এই উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যে দলের কথা বলা হচ্ছে, তাদের সঙ্গে কয়েক দশক ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দুর্নীতি জড়িয়ে রয়েছে। তাই বাংলাদেশের জনগণ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “বিএনপি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ-এর আদর্শ নিয়ে চলে, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক বাংলাদেশি নাগরিকের একই অধিকার, একই নিরাপত্তা এবং একই ধরনের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে তারা।