আন্তর্জাতিক

তারেক রহমানের শপথ: ভারতের পর্যটন শিল্পে আশার আলো

বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ভারতের পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গ (শিলিগুড়ি, ডুয়ার্স) ও সিকিমের পর্যটন ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশি পর্যটকদের ফেরার অপেক্ষায় আছেন। 

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিএনপি নেতা তারেক রহমান বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর, পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বাংলাদেশি পর্যটকদের পুনরায় আগমনের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

তাদের মতে, আন্তঃসীমান্ত পর্যটন পুনরুজ্জীবিত হওয়া অনেকাংশেই কূটনৈতিক অগ্রগতি ও দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা পুনরুদ্ধারের ওপর নির্ভর করবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। এর ফলে ভারত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা ব্যবস্থা সীমিত করে দেয়, যা মূলত চিকিৎসা ও জরুরি প্রয়োজনে সীমাবদ্ধ ছিল। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ভারতের পর্যটন খাতে, কারণ ভারতে (বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে) আসা বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা ছিল সর্বাধিক।

হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক-এর সাধারণ সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বাংলাদেশে নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণকে ‘সুসংবাদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। 

তিনি বলেন, “আমরা আশাবাদী যে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে জনগণের পর্যায়ে এবং সরকারের পর্যায়ে সম্পর্কের উন্নতি হবে। এর ফলে শেষ পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে পর্যটকদের যাতায়াত পুনরায় শুরু হতে পারে। তবে আমাদের দেশের অখণ্ডতা ও সম্মান সবার আগে, এমনকি যদি তা আমাদের ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণও হয়।”

ভারতের পর্যটন বিশেষজ্ঞরা জানান, ২০১৯ সালে ভারতের মোট বিদেশি পর্যটকের ২৩.৫৮ শতাংশ ছিল বাংলাদেশি। ২০২৩ সালে এই হার ছিল ২২.২৬ শতাংশ।

কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার পর, ভারতে আসা বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা কমে ১৭.৫৯ শতাংশে নেমে আসে। 

শিলিগুড়ির একজন জ্যেষ্ঠ হোটেল মালিক দ্য টেলিগ্রাফকে জানান, ২০১৮ সাল থেকে সিকিম বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর উত্তরবঙ্গ ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে বাংলাদেশিদের আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে ভারতে আসা বাংলাদেশি পর্যটকদের প্রায় ৮০.৩৭ শতাংশ পশ্চিমবঙ্গসহ পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে ভ্রমণ করেছেন।

ওই হোটেল মালিক আরো বলেন, “একটি নির্বাচিত সরকার অবশেষে দেশটি পরিচালনা করবে- এটি অবশ্যই একটি ইতিবাচক দিক। তবে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য দুয়ার আবারো খুলবে কি না, তা আরো বেশ কিছু আনুষঙ্গিক বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে।”

গত বছর বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী বিক্ষোভের পর শিলিগুড়ি ও তার আশপাশের বেশ কিছু হোটেল বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আগে আমরা পরিস্থিতির আরো উন্নতির অপেক্ষায় আছি।”

ইস্টার্ন হিমালয়া ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন-এর সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ চক্রবর্তী বাংলাদেশি পর্যটক না আসায় ব্যবসায়িক ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে আমাদের খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা আশা করি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি হবে এবং মানুষ আবারো দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত শুরু করবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।”