আন্তর্জাতিক

ইরানে হামলার জন্য যেসব সমরাস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল সামরিক সম্পদ জড়ো করছে। কারণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ‘সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ দিন’ সময় আছে। চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরদিকে, ইরান পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছে, যেকোনো মার্কিন আগ্রাসনের জবাব ‘সিদ্ধান্তমূলক এবং আনুপাতিকভাবে’ দেওয়া হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র যে সামরিক সম্পদ জড়ো করেছে তার কিছু তথ্য পাওয়া গেছে।

ওপেন-সোর্স গোয়েন্দা বিশ্লেষক এবং সামরিক ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুসারে, গত কয়েক দিনের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে ১২০ টিরও বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে বলে মনে হচ্ছে। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমানশক্তির সর্বোচ্চ বৃদ্ধি এটি।

যেসব যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, ই-থ্রি সেন্ট্রি এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম বিমান, এফ-৩৫ স্টিলথ স্ট্রাইক ফাইটার ও এফ-২২ সুপিরিওরিটি জেট, এফ-১৫ ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান।  ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের অনেক ঘাঁটি থেকে কার্গো বিমান এবং আকাশে জ্বালানি ভরার ট্যাঙ্কারগুলো মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। এতে ইঙ্গিত মিলছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী অপারেশনাল পরিকল্পনা করা হয়েছে।

২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাতের ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে মার্কিন সামরিক হামলার সময় এফ-২২ ও এফ-৩৫ বিমানগুলো বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমানগুলোকে এসকর্ট দিয়েছিল।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সিনিয়র উপদেষ্টা এবং অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্পস কর্নেল মার্ক ক্যানসিয়ান আল জাজিরাকে বলেন, “বি-২ বিমানের যেকোনো গতিবিধির উপর নজর রাখুন। এটি মিডনাইট হ্যামার-এর সম্ভাব্য পুনরাবৃত্তির ইঙ্গিত দেবে।”

ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত যুক্তরাজ্য-মার্কিন যৌথ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়ার দিকেও মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হয়েছে। এখানে বি-২ বিমান সহ দূরপাল্লার মার্কিন কৌশলগত বোমারু বিমানগুলো অবস্থান করতে সক্ষম।

দূরবর্তী ঘাঁটিটি ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলে প্রধান মার্কিন বিমান অভিযানের জন্য একটি লঞ্চ পয়েন্ট হিসাবে কাজ করেছে।

বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড বর্তমানে ক্যারিবিয়ান থেকে মধ্যপ্রাচ্যে পুনঃমোতায়েন করা হচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ক্যারিয়ারটি এবং এর সহযোগী স্ট্রাইক গ্রুপটি এই অঞ্চলে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড আরেক বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের সাথে যোগ দেবে। এই রণতরীটি ওমানের উপকূলে আরব সাগরে মার্কিন নৌশক্তিকে ইরানের আঘাত হানতে সক্ষম দূরত্বের মধ্যে অবস্থান নিয়েছে।

মার্কিন নৌবাহিনীর এই অঞ্চলে একাধিক গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার রয়েছে যা উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থায় সজ্জিত। এই বহুমুখী জাহাজগুলো তাদের সাবমেরিন-বিরোধী এবং নৌবহর প্রতিরক্ষা মিশনের পাশাপাশি ইরানের গভীরে স্থল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহন এবং উৎক্ষেপণ করতে পারে।