ইরানের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ করেছে। গত মাসের ভয়াবহ দমন-পীড়নের পর এটিই প্রথম এত বড় সমাবেশ। রবিবার বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
অর্থনৈতিক অভিযোগের কারণে গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর এটি ছিল বৃহত্তম বিক্ষোভ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানবাধিকার কর্মী সংবাদ সংস্থা (হ্রানা) জানিয়েছে, তারা বিক্ষোভে কমপক্ষে ৬ হাজার ১৫৯ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, যার মধ্যে ৫ হাজার ৮০৪ জন বিক্ষোভকারী, ৯২ জন শিশু এবং সরকারের সাথে যুক্ত ২১৪ জন ব্যক্তি রয়েছে। ট্রাম্প গত মাসে বিক্ষোভকারীদের সমর্থন করেছিলেন। এক পর্যায়ে ‘সাহায্য আসছে’ এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের উৎসাহিত করেছেন তিনি।
শনিবার রাজধানী তেহরানের শরিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বিক্ষোভকারীদের মিছিলের ফুটেজ বিবিসি যাচাই করেছে। পরে তাদের এবং সরকার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ দেখা গেছে।
তেহরানের আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান ধর্মঘট হয়েছে এবং উত্তর-পূর্বে একটি সমাবেশের খবর পাওয়া গেছে। জানুয়ারিতে গণবিক্ষোভে নিহত হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে সম্মান জানাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
ইরানের কাছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি সীমিত পরিসরে সামরিক হামলার কথা বিবেচনা করছেন।
বিবিসির যাচাইকৃত ফুটেজে দেখা গেছে, শনিবার নতুন সেমিস্টারের শুরুতে শত শত বিক্ষোভকারী জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে শরিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তি ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি ইঙ্গিত করে “স্বৈরশাসকের মৃত্যু চাই’ স্লোগান দিতে শোনা গেছে তাদের। ভিডিওতে কাছাকাছি একটি প্রতিদ্বন্দ্বী সরকারপন্থী সমাবেশের সমর্থকদের দেখা যাচ্ছে। পরে দুই শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হতে দেখা গেছে।
রাজধানীর শহীদ বেহেস্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভের যাচাইকৃত ছবিও উঠে এসেছে।
বিবিসি তেহরানের আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়- আমির কবির প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও ফুটেজ যাচাই করেছে, যেখানে সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হচ্ছে।
ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা ‘স্বাধীনতা, স্বাধীনতা’ এবং ‘শিক্ষার্থীরা, চিৎকার করো, তোমাদের অধিকারের জন্য চিৎকার করো’ স্লোগান দিয়েছে বলে জানা গেছে।
দিনের শেষের দিকে অন্যান্য স্থানেও বিশাল বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। রবিবার আরোসমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।
অবশ্য কোনো বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কিনা তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়।