আন্তর্জাতিক

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় দফার আলোচনাতেও চুক্তির সম্ভাবনা অস্পষ্ট

সংঘাত এড়াতে তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনার জন্য জেনেভায় মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনের পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সর্ববৃহৎ উপস্থিতি এবং ইরান বল প্রয়োগের মাধ্যমে আক্রমণের জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতির মধ্যে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবারের আলোচনা শুরু হওয়ার তিন ঘন্টা পর সাময়িক বিরতি দেওয়া হয়। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি জানিয়েছেন, আলোচকরা ‘সৃজনশীল এবং ইতিবাচক ধারণা’ বিনিময় করেছেন এবং বিরতি নিয়ে ফিরে আসবেন। ‘আমরা আরো অগ্রগতি আশা করি’ বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে চুক্তির সম্ভাবনা এখনো অস্পষ্ট।

ট্রাম্প কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধান করতে পছন্দ করেন বলে জানিয়েছেন। তবে তিনি এও জানিয়েছেন, ইরানের নেতাদের উপর চুক্তি মেনে নিতে চাপ দেওয়ার জন্য তিনি তেহরানের উপর সীমিত হামলার কথা ভাবছেন।

ইরান তার ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে তারা তার পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে কিছু ছাড় দিতে প্রস্তুত।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বৃহস্পতিবার বৈঠকে বিরতির পরে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “পারমাণবিক ক্ষেত্রে ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে এবং উভয় পক্ষই অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে আলোচনা চালিয়ে গেছে। আমরা আত্মবিশ্বাসী। আমাদের অবশ্যই চালিয়ে যেতে হবে এবং দেখতে হবে। এটি একটি প্রক্রিয়া। বিদেশি গণমাধ্যম এবং কিছু আমেরিকান কর্মকর্তার পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সন্দেহকে আরো বাড়িয়ে তুলছে। আমাদের জন্য, ফলাফলের উপর মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। আমরা অবিচল ছিলাম এবং আমাদের অবস্থান আমাদের কথার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। আজকের আলোচনা অত্যন্ত গুরুতর ছিল এবং আমরা আশা করি আজ রাতে আমরা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনার ধারাবাহিকতা বাস্তবিকভাবে দেখতে পাব। যেকোনো চুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে, যা ইরানের জনগণকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে।”