যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শনিবার ইরানের রাজধানী তেহরানসহ সারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে এলাকাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে তার মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোও ছিল।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তেহরানের উত্তরে শেমিরানে অবস্থিত প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছের একটি এলাকায় এবং খামেনির বাসভবনের কাছে সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এপির খবর অনুসারে, রাজধানীতে খামেনির কার্যালয়ের কাছেও হামলা চালানো হয়েছে।
সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, হামলার সময় খামেনি তেহরানে ছিলেন না এবং তাকে একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
৮৬ বছর বয়সী খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দীর্ঘদিন থেকেই যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ‘এক নম্বর শত্রু’ হিসেবে অভিহিত করে আসছেন, যার ঠিক পরেই রয়েছে ইসরায়েল।
খামেনি বহুদিন থেকেই বলে আসছেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল বেসামরিক উদ্দেশ্যে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা বা জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা (আইএইএ) কেউই ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে এমন প্রমাণ পায়নি। তবে ইসরায়েল ও ট্রাম্প প্রশাসন অনেকদিন ধরেই ইরানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয় দেশের কর্মকর্তারাই এর আগে খামেনির বিরুদ্ধে হুমকি জারি করেছেন।
গত বছরের জুন মাসে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের পাল্টাপাল্টি হামলার পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছিলেন, “খামেনির মতো একজন স্বৈরশাসক, যিনি ইরানের মতো রাষ্ট্রের প্রধান এবং যার ভয়ংকর লক্ষ্য ইসরায়েলকে ধ্বংস করা- তিনি টিকে থাকতে পারেন না।”
একই মাসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ইসরায়েল খামেনিকে হত্যার চেষ্টা করার বিষয়টি নাকচ করেনি। তিনি দাবি করেন, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের ‘অবসান’ ঘটাবে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও খামেনিকে হুমকি দিয়ে মন্তব্য করেছেন। চলতি মাসের শুরুতে এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানি নেতার ‘খুব চিন্তিত’ হওয়া উচিত, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে। অন্য এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানে শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে ‘সবচেয়ে ভালো ঘটনা’ এবং কারা নেতৃত্ব গ্রহণ করতে পারে এমন লোকও সেখানে আছে, তবে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
গত বছর ইরানের ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়ার সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু করা সহজ হবে।
ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমরা জানি তথাকথিত ‘সর্বোচ্চ নেতা’ কোথায় লুকিয়ে আছেন। তিনি একটি সহজ লক্ষ্যবস্তু, কিন্তু সেখানে নিরাপদ আছেন—আমরা তাকে সরিয়ে দিচ্ছি না (হত্যা করছি না!), অন্তত আপাতত নয়।”
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পর এক বক্তব্যে ট্রাম্প ইরানের নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো ‘ধ্বংস’ করার অঙ্গীকার করেন এবং ইরানিদেরকে তাদের সরকার উৎখাত করার আহ্বান জানান।
ট্রাম্প বলেন, “আমরা কাজ শেষ করার পর, আপনারা আপনাদের সরকারের দায়িত্ব নিন। এটি আপনাদেরই হবে। প্রজন্মের পর প্রজন্মের মধ্যে সম্ভবত এটাই আপনাদের একমাত্র সুযোগ।”
আল-জাজিরার ইরান বিষয়ক সাংবাদিক আলি হাশেমের মতে, এটি স্পষ্ট যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানের “রাজনৈতিক নেতৃত্বের শিরশ্ছেদ করা। এটি কতটা সফল বা ব্যর্থ হয়েছে, তা বলার সময় এখনো আসেনি।”