যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ক্ষমা ভিক্ষা চাইতে বাধ্য হবে: ইরানের স্পিকার
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি নেতাদের ‘নোংরা অপরাধী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ওপর চলমান হামলার জন্য তাদের ‘বিধ্বংসী আঘাতের’ মুখোমুখি হতে হবে।
রবিবার (১ মার্চ) গালিবাফ একটি টেলিভিশন ভাষণে এই মন্তব্য করেন। শনিবার হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে তিনিই এখন পর্যন্ত ক্যামেরার সামনে আসা ইরানের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার কর্মকর্তা।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে উদ্দেশ্য করে গালিবাফ বলেন, “আপনারা আমাদের রেড লাইন অতিক্রম করেছেন এবং আপনাদের অবশ্যই এর মূল্য দিতে হবে। আমরা এমন বিধ্বংসী আঘাত হানব যে আপনারা নিজেরাই আমাদের কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করতে বাধ্য হবেন।”
যুক্তরাষ্ট্রের ২৭টি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলা
ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডস (আইআরজিসি) বাহিনী বর্তমানে ষষ্ঠ দফার হামলা চালাচ্ছে।
কিছুক্ষণ আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তারা ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ইরানের নিরাপত্তা সংস্থাটির দাবি, ২৭টি মার্কিন ঘাঁটি, ইসরায়েলের তেল নফ বিমানঘাঁটি, তেল আবিবে অবস্থিত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর হাকিরিয়া এবং ওই শহরেরই একটি বিশাল প্রতিরক্ষা শিল্প কমপ্লেক্সে হামলা চালানো হয়েছে।
সংস্থাটি আরো বলেছে, ইরানি বাহিনী পর্যায়ক্রমে এমন কঠোর হামলা চালাবে যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সারাজীবনেও তা ভুলতে পারবে না।
ইরানের নৌবাহিনী গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
ইরানের নৌবাহিনীকে ধ্বংস করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি জানান, ট্রাম্পের নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো অর্জনে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ‘পূর্ণ স্বাধীনতা’ দেওয়া হয়েছে। খবর আল-জাজিরার।
রবিবার (১ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া একটি পোস্টে হেগসেথ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান যে পাল্টা হামলা চালিয়েছে, তারপরে আমেরিকানদের লক্ষ্য করে ছোড়া কোনো ‘শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র’ সহ্য করবে না ওয়াশিংটন।
তিনি বলেন, “সেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করা হবে, সেই সঙ্গে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। ইরানের নৌবাহিনীকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে।”
ইরানে নতুন অধ্যায়: তিন সদস্যের হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ১৯৮৯ সাল থেকে দায়িত্ব পালনকারী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছেন। খবর আল-জাজিরার।
রবিবার (১ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ জানায়, দেশটির শাসনব্যবস্থায় সাময়িক শূন্যতা পূরণে একটি উচ্চপর্যায়ের অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং অভিভাবক পরিষদের একজন আইনবিদকে নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের একটি কাউন্সিল সাময়িকভাবে রাষ্ট্রের সব নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করবেন।
একটি সুশৃঙ্খল অন্তর্বর্তীকালীন সময় নিশ্চিত করা এবং পরবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে স্থায়ী নেতৃত্ব নির্ধারণের আগ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম সচল রাখাই এই কাউন্সিলের প্রধান কাজ।
খামেনির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করল ইরান, ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। ইরানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম তাসনিম ও ফারস এ তথ্য জানিয়েছে।
ফারস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার ভোরে নিজের কার্যালয়ে ‘অর্পিত দায়িত্ব পালনরত অবস্থায়’ খামেনি নিহত হন।
খামেনির মৃত্যুর ঘটনায় ইরান সরকার দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এছাড়া সাত দিনের সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে।