আন্তর্জাতিক

ইরানের বিরুদ্ধে ‘প্রতিরক্ষা যুদ্ধে প্রস্তুত’ ফ্রান্স জার্মানি যুক্তরাজ্য

ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা যুদ্ধে প্রস্তুত ফ্রান্স জার্মানি যুক্তরাজ্য নিজেদের এবং উপসাগরীয় মিত্রদের স্বার্থ রক্ষা করতে প্রতিরক্ষারক্ষামূলক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য।

তিন দেশের নেতারা যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, “ইরান যে অগোছালো এবং অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, তা দেখে আমরা মর্মাহত। কারণ, তারা এমন দেশকেও লক্ষ্য করেছে যারা প্রাথমিকভাবে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে জড়িত ছিল না।”

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, “সম্ভাব্যভাবে প্রয়োজনীয় এবং অনুপযুক্ত নয়- এমন প্রতিরক্ষা কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে আমরা আমাদের স্বার্থ এবং উপসাগরের মিত্রদের স্বার্থ রক্ষার জন্য পদক্ষেপ নেব, যাতে ইরানকে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন উৎক্ষেপণের ক্ষমতা উৎসেই ধ্বংস করা যায়।”

ইরানের হামলায় জেরুজালেমে একের পর এক বিস্ফোরণ ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করার পর পশ্চিম জেরুজালেমে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, “কিছুক্ষণ আগে আমরা ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করেছি।”

সেনাবাহিনীর দাবি, “হুমকি প্রতিহত করতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় আছে।”

বিমান হামলায় সাত ইরানি কমান্ডার ‘নিহত’ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুগল বিমান হামলায় ইরানের সাতজন সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন।

আলজাজিরা বলছে, ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি এই খবর প্রকাশ করেছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বাজিস মেজর জেনারেল শাহিদ মোহাম্মদ শিরাজি, যিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ কমান্ডারের কার্যালয়ের প্রধান ছিলেন।

তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেইডার জেনারেল শাহীদ সালেহ আসাদী হামলায় নিহত হয়েছেন। তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের গোয়েন্দা বিভাগের উপ-প্রধান ছিলেন।

ইরানের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারগুলোতে গুরুতর আঘাত হানার দাবি ইরানের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারগুলো ‘গুরুতর আঘাত’ হানার দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল আভি দাফরিন দাবি করেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে লক্ষ্য করে চালানো অভিযানের দ্বিতীয় দিনে তারা ৩০টির বেশি হামলা সম্পন্ন করেছে।

তিনি বলেছেন, “অপারেশন দ্য রোর অব দ্য লায়ন’-এর অংশ হিসেবে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর এসব হামলা চালানো হয়েছে। এর লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করা এবং ইসরায়েলের দিকে হামলা যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা।

দাফরিন দাবি করেছেন, সর্বশেষ হামলার ঢেউয়ে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সদরদপ্তরগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে এবং কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। এতে ওই কেন্দ্রগুলোর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিও নিহত হয়েছেন বলে দাবি তার।

তিনি আরো বলেন, “যেকোনো হুমকি নির্মূল করতে এবং ইসরায়েলি নাগরিকদের নিরাপত্তা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী অভিযান অব্যাহত রাখবে।”

ইরানের গান্ধী হাসপাতালে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুগল বিমান হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি হাসপাতাল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানি বার্তা সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, উত্তর তেহরানে অবস্থিত গান্ধী হাসপাতালটি মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, তেহরানের গান্ধী হাসপাতাল জায়নিস্ট-আমেরিকান বিমান হামলায় আক্রান্ত হয়েছে।

ইরানের আরো দুটি সংবাদমাধ্যম- ফার্স নিউজ এজেন্সি এবং মিজান নিউজ এজেন্সি ক্ষতিগ্রস্ত গান্ধী হাসপাতালের ভেতর থেকে ধারণা করা দাবি করে কিছু ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে মেঝেতে ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ ও ফাঁকা হুইল চেয়ারের দৃশ্য দেখা গেছে।

তবে এ হামলার বিষয়ে স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে লিখেছে আলজাজিরা।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত সামরিক অভিযানের পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানে একাধিক কৌশলগত স্থাপনায় হামলার জেরে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ, কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীর একটি হাসপাতাল লক্ষ্যবস্তু হওয়ার অভিযোগ সংঘাতকে আরো উদ্বেগজনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আগারচি বলেছেন, আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে কোনো সীমা নেই। তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, ইরানের বর্তমান সরকার শক্তির শেষবিন্দু দিয়ে লড়াই করতে চায়। অন্যদিকে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুও ইরানের বর্তমান শাসন ব্যবস্থার পতন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার হুংকার দিচ্ছেন। উভয় পক্ষ এখনো পর্যন্ত যুদ্ধে অনড়।

সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো ইরানে হামলায় ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে ওইসব মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে তেহরান। এতে লক্ষ্যবস্তুর বাইরেও সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ভিডিওতে দেখানো হচ্ছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ১ লাখ রিজার্ভ সেনাকে নামাচ্ছে ইসরায়েল ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে প্রায় ১ লাখ রিজার্ভ সেনাকে ডাকা হচ্ছে।

রবিবার (১ মার্চ) রাতে এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয়ে ইরানের বিরুদ্ধে চালানো ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’-এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন ফ্রন্টে প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে এবং প্রায় ১ লাখ রিজার্ভ সদস্যকে সমাবেশের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রাপ্তবয়স্ক সব নাগরিকের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ নেওয়া বাধ্যতামূলক। যেকোনো সময় দেশের জন্য যুদ্ধে নামতে বাধ্য তারা। এমন সেনাদের রিজার্ভ সেনা বলা হয়। তবে তারা নিয়মিত সামরিক বাহিনীর সদস্য নন।

ইসরায়েলি সংবাদপত্র দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের খবরের বরাত দিয়ে আলজাজিরা লিখেছে, এরইমধ্যে অন্তত ৫০ হাজার রিজার্ভ সেনা যুদ্ধে দায়িত্ব পালন করছেন।

ইসরায়েলের প্রাপ্তবয়স্ক সব নাগরিকের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ নেওয়া বাধ্যতামূলক। যেকোনো সময় দেশের জন্য যুদ্ধে নামতে বাধ্য তারা। এমন সেনাদের রিজার্ভ সেনা বলা হয়। তবে তারা নিয়মিত সামরিক বাহিনীর সদস্য নন।

এদিকে গাজায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত একজন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৬২৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। 

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৭০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের তালিকা ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে রয়েছে।

কাতার থেকে ‘কম জরুরি’ কর্মীদের সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে কাতার থেকে ‘ জরুরি নয়’- এমন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নিয়েছে। তাদের এ-সংক্রান্ত অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (১ মার্চ) এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে কাতারের জন্য লেভেল-৩ ভ্রমণ সতর্কতা জারি রেখেছে, যার অর্থ নাগরিকদের উপসাগরীয় দেশ কাতারে ভ্রমণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বলা।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান কাতারের দিকে ডজনখানেক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।

ইরান ‘জাতীয় স্বার্থের জন্য হুমকি’- শুধু এই অভিযোগ তুলে শনিবার (১ মার্চ) সকালে দেশটিতে হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। একটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে মধ্যযুগীয় ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতিতে এই হামলায় শনিবার সকালে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তার মৃত্যুতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছে ইরান সরকার।

আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করা হবে বলে জানিয়েছে  ইরান।