আন্তর্জাতিক

ইরানের ৭৫৫টি ড্রোন প্রতিরোধ করেছে আমিরাত

ইরানের ৭৫৫টি ড্রোন প্রতিরোধ করেছে আমিরাত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা ৭৫৫টি ড্রোন প্রতিরোধ করা হয়েছে। মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানিয়েছেন, এখনো পর্যন্ত ৮১২টি ইরানি ড্রোন সনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৭৫৫টি ড্রোন প্রতিরোধ করা হয়েছে এবং ৫৭টি ড্রোন আমিরাতের ভূখণ্ডের মধ্যে পড়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেছেন, “আটটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সনাক্তকরণ এবং ধ্বংস করা হয়েছে, যার ফলে কিছু ক্ষতি হয়েছে, পাশাপাশি তিন জন নিহত এবং ৬৮ জন আহত হয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি বেসামরিক স্থাপনায় সামান্য থেকে মাঝারি ধরণের বস্তুগত ক্ষতি হয়েছে।”

মেজর জেনারেল আবদেল নাসির আল হুমাইদি আরো জানিয়েছেন, ইরানের আক্রমণ ঠেকাতে পর্যাপ্ত অস্ত্র আছে আমিরাতের কাছে।

ইরানের সবকয়টি বাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সবকয়টি বাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেছেন।

ট্রাম্প তার ট্রুথ স্যোশালে লিখেছেন, “তাদের বিমান প্রতিরক্ষা, বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী এবং নেতৃত্ব ধ্বংস হয়ে গেছে। তারা কথা বলতে চায়। আমি বলেছি, অনকে দেরি হয়ে গেছে!”

ইরান যুদ্ধের সর্বশেষ যা জানা যাচ্ছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ইরানের শত্রুদের ‌যুদ্ধ বন্ধ করতেই হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দেরি হওয়ার আগেই নিজেদের দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানিয়েছে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তা শিগগিরই ইউরোপকে গ্রাস করবে।

এদিকে আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) সর্বশেষ উপগ্রহচিত্রের ভিত্তিতে জানিয়েছে, ইরানের ভূগর্ভস্থ নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে প্রবেশপথের কিছু ভবনে সাম্প্রতিক ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে কোনো তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি। অতিরিক্ত কোনো ক্ষতির চিহ্নও পাওয়া যায়নি।

ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে সেনা মোতায়েন জোরদার করার পর সেখানে অগ্রসর হয়ে কৌশলগত অবস্থান দখলের নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে সীমান্ত এলাকা থেকে লেবাননের সেনাবাহিনী পিছু হটেছে।

শরণার্থী বিষয়ক জাতিসংঘ সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, সোমবার ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে লেবাননে অন্তত ৩০ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে।

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৬৫ জনের জন্য দেশটিতে গণ-জানাজার আয়োজন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় ইরানজুড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, অন্তত ১৫৩টি শহরের পাঁচ শতাধিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে।

কাতার জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে বর্তমানে কোনো যোগাযোগ চলছে না। দেশটি দাবি করেছে, হামলা শুধু সামরিক স্থাপনায় নয়, তাদের পুরো ভূখণ্ডকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, কুয়েত সরকার কুয়েত সিটিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসকে লক্ষ্য করে চালানো ‌‘বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ হামলার’ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ইরানে নিহত বেড়ে ৭৮৭

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮৭ জনে। হামলা পুরোপুরি অব্যাহত রেখেছে তারা। 

আলজাজিরা লিখেছে, হামলার মধ্যে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমেও আঘাত হানা হয়েছে। ইরানের বেসামরিক বহু স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে।

ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননেও বিমান হামলা জোরদার করেছে এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে স্থল অভিযান শুরু করেছে, বলা হয়েছে আলজাজিরার খবরে।

অন্যদিকে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে দুটি ড্রোন আঘাত হেনেছে। এতে সীমিত পরিসরে আগুন ছড়িয়ে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে কোনো যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়াই ইরানে আগ্রাসন শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তাদের আগ্রাসনে ইরানের সামরিক-বেসামরিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে গেছে। এ অবস্থায় প্রতিরোধ যুদ্ধ অব্যাহত রেখেছে ইরান।

যুদ্ধ থামবে কি, কী বলছে ইরান

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, তাদেরই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে এবং ইরান এই সংঘাত শুরু করেনি।

তিনি বলেন, “তাদের অবশ্যই যুদ্ধ থামাতে হবে। আমরা এটি শুরু করিনি। আমাদের পছন্দ ছিল কূটনীতি।”

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) আলজাজিরার খবরে এই তথ্য দেওয়া হয়েছে। 

বাঘাই দাবি করেছেন, দেরি হওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিজেদের দায়িত্ব পালনের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। 

তার ভাষায়, “যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা শিগগির ইউরোপকে গ্রাস করবে। যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসন যে আগুন জ্বালিয়েছে, তা পুরো বিশ্বকে গ্রাস করবে।”

ইউরোপের অবস্থানকে পরস্পরবিরোধী বর্ণনা করে তিনি বলেন, আইন লঙ্ঘন এবং নৈতিক নীতিমালা ও জাতিসংঘ সনদের যেকোনো অবমাননার ফল আছে, যা পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের ওপর প্রভাব ফেলবে।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো যদি বিষয়টি অনুধাবন করে, তাহলে তারা নিশ্চয়ই তাদের উদাসীন অবস্থান থেকে সরে আসবে।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্ত পরিষদের সুস্পষ্ট ও গুরুতর দায়িত্ব রয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের নিন্দা জানানো এবং কারা আগ্রাসন চালাচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে পৃথক করে চিহ্নিত করা।

ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রমাণ নেই: রাশিয়া

ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছিল, এমন কোনো প্রমাণ তারা এখনো দেখেনি বলে জানিয়েছে রাশিয়া। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অজুহাতের হামলা অব্যাহত রেখেছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, “আমরা এখনো এমন কোনো প্রমাণ দেখিনি যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছিল। অথচ এটিই ছিল এই যুদ্ধের প্রধান কারণ। যদি এই কারণ একমাত্র কারণ না-ও হয়, তবে অজুহাত।” 

ল্যাভরভ এখন ব্রুনেই সফরে রয়েছেন। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন নিয়ে রাশিয়ার এই অবস্থান তুলে ধরেন।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরানের ওপর হামলার প্রভাব পুরো অঞ্চলজুড়ে অনুভূত হচ্ছে। আরব দেশগুলো অর্থনৈতিক ক্ষতির বোঝা বহন করছে এবং হতাহতও হচ্ছে।

ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। তবে আগ্রাসন শুরুর পর ইরানের জন্য তারা কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে, এমন কোনো তথ্য নেই। 

ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ নেই: কাতার

কাতার জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে বর্তমানে তাদের দেশের কোনো ধরনের যোগাযোগ নেই।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, “ইরানের সঙ্গে আমাদের কোনো চলমান যোগাযোগ নেই।”

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) আলজাজিরা কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই খবর দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, কাতারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের (ইন্টারসেপ্টর মিসাইল) মজুত শেষ হয়ে যায়নি। চলমান হুমকি মোকাবিলায় তাদের পর্যাপ্ত সক্ষমতা রয়েছে।

এ ছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করলে তারা আবার আলোচনায় ফিরবে, এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে মন্তব্য করেন কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র।

তিনি বলেন, কাতারের ভেতরে মোসাদের সেল পরিচালিত হচ্ছে এমন কোনো তথ্য তাদের সরকারের কাছে নেই।

এর আগে মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যমের উপস্থাপক টাকার কার্লসন দাবি করেন, কাতার ও সৌদি আরব মোসাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মুখে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। কাতারের বেশ কিছু স্থাপনায় ইরানি ড্রোন আঘাত করেছে।

অবশ্য ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বারবার বলেছে, কাতারসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।