মধ্যপ্রাচ্যে আরো সেনা ও অস্ত্র পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বুধবার ইরানে মার্কিন অভিযান সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে লড়তে মধ্যপ্রাচ্যে আরো সেনা ও অস্ত্র পাঠানো হচ্ছে।
তিনি বলেছেন, আমেরিকা ইরানে জয়লাভ করতে যাচ্ছে...। আমাদের এবং আমাদের মিত্রদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রচুর রানওয়ে রয়েছে। আমরা যতক্ষণ প্রয়োজন ততক্ষণ সহজেই এই লড়াই চালিয়ে যেতে পারি।”
হেগসেথ দাবি করেন, এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ‘ইরানের আকাশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ পাবে।
তিনি বলেন, “আরো বড় ঢেউ আসছে। আমরা সবেমাত্র শুরু করছি।...যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নির্ভুল মাধ্যাকর্ষণ বোমার সীমাহীন মজুদ রয়েছে, যা তারা এই যুদ্ধে ব্যবহার করবে।”
ইরানের ১৪০ নাবিক নিখোঁজ
ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে ১৪০ জন নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে।
বুধবার ভোরে ইরানি নৌবাহিনীর জাহাজ ‘আইআরআইএস দেনা’ থেকে একটি বিপদের ডাক পাওয়ার পর ৩২ জনকে উদ্ধার করেছে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী।
শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর মুখপাত্র বুধিকা সম্পথ বলেছেন, “যদিও এটি আমাদের জলসীমার বাইরে ছিল, এটি আমাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অঞ্চলের মধ্যে ছিল। তাই আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা অনুসারে আমরা সাড়া দিতে বাধ্য ছিলাম। আমরা পানিতে ভাসমান লোকদের খুঁজে পেয়েছি, তাদের উদ্ধার করেছি এবং পরে যখন আমরা অনুসন্ধান করি তখন আমরা জানতে পারি যে তারা ইরানের একটি জাহাজের লোক।”
তিনি জানান, জাহাজের নথি অনুসারে ১৮০ জন জাহাজে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মুখপাত্র জানান, উদ্ধার অভিযান শুরু করার সময় তারা জাহাজটি দেখতে পাননি। তবে জলে তেলের দাগ এবং ভাসমান লাইফ র্যাফ্ট দেখেছেন। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার জন্য সাবমেরিন আক্রমণের রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করেন এবং এর কারণ অজানা বলে জানিয়েছেন।
এর আগে শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এয়ার ভাইস মার্শাল সম্পথ থুইয়াকোন্থা বিবিসি সিংহলীকে জানিয়েছিলেন, প্রায় ১৪০ জন নিখোঁজ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এখনো পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার সামরিক বাহিনী জাহাজটি ডুবে যাওয়ার কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত মিশনের
ইরানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্তে গঠিত জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত মিশন দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) এক বিবৃতিতে ইরানে তদন্ত করা জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন বলেছে, “এই হামলাগুলো জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থি, যেখানে কোনো রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।”
তদন্ত মিশনটি আরো জানায়, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি সম্মান দেখানো সব দেশের দায়িত্ব।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ ইরানে হামলা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, যাতে নিহত হন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
পাঁচ দিনের টানা হামলায় ইরানের বহু বেসামরিক স্থাপনা, ঘরবাড়ি গুঁড়িয়েছে গেছে, নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এ অবস্থায় নিদারুণ জীবন-যাপন করছে ইরানের মানুষ। পবিত্র রমজান মাসে রোজাদার মানুষের কষ্ট বেড়েছে সীমাহীন; তার মধ্যে হতাহতদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভৎস পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়েছে তাদের।
সূত্র: আলজাজিরা।