ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সি.ভি. আনন্দ বোস হঠাৎ পদত্যাগ করেছেন, যা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতি নড়েচড়ে বসেছে; উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন আনন্দ বোস, যিনি এই মুহূর্তে দিল্লিতে রয়েছেন।
তবে ঠিক কী কারণে তার এই পদত্যাগ, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন দুয়ারে কড়া নাড়ছে। তার আগে আগে রাজ্যপাল আনন্দ বোসের পদত্যাগ ঘিরে রাজনীতিতে কানাঘুষা শুরু হয়েছে।
আগামী এপ্রিল-মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন হতে পারে।
২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের পদে বসেন আনন্দ বোস। পাঁচ বছর মেয়াদে ২০২৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল তার। তবে সাড়ে তিন বছরের মাথায় তার এই আচমকা পদত্যাগ রাজ্যের রাজনীতিতে গুঞ্জন সৃষ্টি করেছে, এ কি তাহলে বিজেপির কোনো ছক?
রাজ্যপালের অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি আনন্দ বোসের পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করে বলেছেন, “আমরা দিল্লিতে আছি। রাজ্যপাল তার ইস্তফাপত্র রাষ্ট্রপতি ভবনে পাঠিয়ে দিয়েছেন।”
লোকভবন (রাজ্যপালের সরকারি বাসভবন) সূত্রে খবর, রাষ্ট্রপতি ভবন তার পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করেছেন।
আনন্দ বোসের পর পশ্চিমবঙ্গের অস্থায়ী রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আর এন রবিকে। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এই পদ সামলাবেন তিনি।
এদিকে আনন্দ বোসের আকস্মিক পদত্যাগের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডেলে মমতা লিখেছেন, “আমি হতবাক এবং গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এই মুহূর্তে তার পদত্যাগের কারণ আমার জানা নেই।”
“তবে বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে, আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কিছু রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য রাজ্যপাল যদি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চাপের মুখে পড়েন, তাহলে আমি অবাক হব না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে জানিয়েছেন যে, শ্রী আর. এন. রবিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে নিযুক্ত করা হচ্ছে। তিনি এই বিষয়ে প্রতিষ্ঠিত রীতি অনুসারে কখনো আমার সঙ্গে পরামর্শ করেননি। এই ধরনের পদক্ষেপ ভারতের সংবিধানের চেতনাকে ক্ষুণ্ন করে এবং আমাদের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভিত্তির ওপর আঘাত করে,” বলেন মমতা।
তিনি আরো বলেন, “কেন্দ্রকে সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয়তার নীতিগুলোকে সম্মান করতে হবে এবং গণতান্ত্রিক রীতি-নীতি এবং রাজ্যগুলোর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে, এমন একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।”
অন্যদিকে রাজ্যপালের পদত্যাগ নিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “শারীরিক কারণ হতে পারে বা অন্য কোনো কারণ হতে পারে। এটা কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত। তাকে অন্য কাজেও কেন্দ্রীয় সরকার ব্যবহার করতে পারে।”