ডিজিটাল অন্ধকারের কবলে রয়েছে ইরান। দেশজুড়ে সরকারি নির্দেশে জারি করা ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট আজ মঙ্গলবার দশম দিনে পদার্পণ করেছে। এটি বিশ্ব ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী ও কঠোর শাটডাউন হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। খবর তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর।
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকস-এর তথ্যমতে, গত ২৪০ ঘণ্টা ধরে ইরানের সাধারণ মানুষ বহির্বিশ্ব থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন, যা বিশ্বজুড়ে রেকর্ডকৃত ‘সরকার-ঘোষিত দেশব্যাপী ইন্টারনেট শাটডাউনগুলোর’ মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ।
সংস্থাটি আরো উল্লেখ করেছে, চলমান এই শাটডাউনটি ‘জানুয়ারির বিক্ষোভের পর ইরানের দ্বিতীয় দীর্ঘতম শাটডাউন’। এর ফলে ২০২৬ সালের এক-তৃতীয়াংশ সময় দেশটিকে কার্যত অফলাইনে কাটাতে হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, অব্যাহত হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ প্রায় ১ হাজার ৩০০ মানুষ নিহত হয়েছেন।
এর জবাবে ইরান ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং পারস্য উপসাগরীয় বেশ কিছু দেশ- যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে- সেখানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
এছাড়া ইরান ১ মার্চের দিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এই সমুদ্রপথ দিয়ে সাধারণত প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এবং বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ হয়।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।