আন্তর্জাতিক

রক্তাক্ত তেহরান, জ্বলছে তেল আবিব, শান্তি সুদূর পরাহত

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। কোনো পক্ষই এখনও পর্যন্ত পিছু হঠতে রাজি নয়। একদিনে তেহরানে বৃষ্টির মতো বোমা আছড়ে পড়েছে, অন্যদিকে ইরান তাদের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে শুরু করেছে ভয়ংকর পাল্টা আঘাত। খবর আল-জাজিরার। 

বুধবার (১১ মার্চ) আল-জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি তোহিদ আসাদী জানান, মধ্যরাত থেকে ইরানের রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে একের পর এক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র। পুলিশ স্টেশন ও সামরিক সদর দপ্তরের পাশাপাশি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকাগুলোও রেহাই পায়নি। তেল অবকাঠামো, স্কুল এবং হাসপাতালেও হামলা চালানো হয়েছে।

বুধবার তেহরানের আলিগুদারজ শহরে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে নয়জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন আইআরজিসি কর্নেল সৈয়দ ইব্রাহিম মুসাভিয়ান।

ইরানের রেড ক্রিসেন্টের সর্বশেষ অনুযায়ী, অব্যাহত হামলায় ইরানে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হারিয়েছেন।

ইরান জানিয়েছে, তারা তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযান অব্যাহত রেখেছে এবং ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ৩৭তম দফা হামলার ঘোষণা দিয়েছে।

বুধবার (১১ মার্চ) ইরানি কর্মকর্তারা জানান, এই আক্রমণ প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে এবং এতে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘খোররামশাহর-৪’ , যা ‘খাইবার’ ক্ষেপণাস্ত্র নামেও পরিচিত।

ইরানের দাবি, তাদের এই বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র বহর সরাসরি আঘাত হেনেছে তেল আবিবের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রে। 

এই হামলাগুলো তেল আবিবের একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রসহ জেরুজালেমের সামরিক অবস্থান এবং অঞ্চলের অন্যান্য মার্কিন-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুগুলোতে চালানো হয়েছে। এছাড়াও জেরুজালেমের বেশ কিছু সামরিক অবস্থান এবং ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুকে টার্গেট করা হয়েছে। 

আল-জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি তোহিদ আসাদীর মতে, সার্বিক পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, কোনো পক্ষই পিছু হটতে রাজি নয়। একদিকে তেহরানে প্রাণঘাতী হামলা, অন্যদিকে ইরানের পাল্টা ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্রের জবাব- সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি বা উত্তেজনা প্রশমন থেকে অনেক দূরে চলে গেছে।