আন্তর্জাতিক

উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা জোরদার

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের প্রতিশোধ হিসেবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতিবাদ সত্ত্বেও হামলা দিন দিন আরো জোরদার করছে তেহরান। 

শনিবার (১৪ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারের সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার গভীর রাত ও আজ শনিবার ভোরেও সৌদি আরব ও কাতারসহ একাধিক দেশকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বেশ কয়েকটি বিবৃতিতে জানায়, দেশটির পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলে আক্রমণ প্রতিহত করার সময় বেশ কিছু ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় আরো জানায়, শুক্রবার রাতে আল-খারজ গভর্নরেটের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও তাদের সশস্ত্র বাহিনী রুখে দিয়েছে।

এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল শনিবার জানায়, সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটিতে অবস্থানকালে গত কয়েক দিনে মার্কিন বিমান বাহিনীর পাঁচটি রিফুয়েলিং (জ্বালানি ভরার) বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, ইরানি হামলায় এই বিমানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হামলাটি ঠিক কখন ঘটেছে তা উল্লেখ করা হয়নি এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

অন্যদিকে, কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করার কথা জানিয়েছে।  রাত ২টার দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ঘোষণা দেওয়া হয় এবং সকালে আরেকটি হামলা রুখে দেওয়ার খবর জানানো যায়।

কুয়েতের ন্যাশনাল গার্ডও একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে। দেশটির সরকারি যোগাযোগ কেন্দ্র জানায়, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ-তে একটি জ্বালানি কেন্দ্র ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন ধরে যায়। এছাড়া দুবাইয়ের কেন্দ্রস্থলের একটি ভবন ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে আমিরাতের মিডিয়া অফিস জানায়, এসব ঘটনায় এতে কেউ হতাহত হয়নি।

শনিবার ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা, যেমন বন্দর ও সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন তাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু। কারণ হিসেবে তারা মার্কিন বাহিনী কর্তৃক ইরানের দ্বীপগুলোতে হামলার কথা উল্লেখ করেছে। আইআরজিসি আমিরাতের বাসিন্দাদের মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও বন্দর এলাকা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

এর আগে শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের খারগ দ্বীপের রপ্তানি কেন্দ্রের ‘প্রতিটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালিয়েছে, তবে তেলের অবকাঠামোতে আঘাত করা হয়নি।

বর্তমানে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সম্পদ, সামরিক ঘাঁটি এবং বাণিজ্যিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে।