আন্তর্জাতিক

হাদির হত্যাকারীদের পালাতে ‘সহায়তাকারী’ ফিলিপ সাংমাও পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় ফিলিপ সাংমা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।

এসটিএফ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ও শনিবারের মধ্যবর্তী সময়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গের কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফিলিপকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তাকে এসটিএফ হেফাজতে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তদন্তকারীদের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত ফিলিপ সাংমা একজন বাংলাদেশি নাগরিক। তিনি হাদি হত্যা মামলার মূল দুই অভিযুক্তকে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করতে সরাসরি সহায়তা করেছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং ঘাতকরা বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছে, তা জানতে ফিলিপকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এর আগে, গত সপ্তাহে হাদি হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেনকে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ। ৩৭ বছর বয়সী ফয়সাল করিম মাসুদের বাড়ি বাংলাদেশের পটুয়াখালী এলাকায় এবং ৩৪ বছর বয়সী আলমগীর হোসেনের বাড়ি ঢাকায়। পরে পশ্চিমবঙ্গের বিধাননগর মহকুমা আদালত তাদের ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ডের নির্দেশ দেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে। ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছিলেন তিনি।

পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানা যায়, গুলি ওসমান হাদির মাথার ডান দিক থেকে ঢুকে বাম পাশ দিয়ে বের হয়ে গেছে।

পরিবারের ইচ্ছায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। সবশেষ সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়েছিল ওসমান হাদিকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি।