আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের পাঁচ বিধানসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন। 

রবিবার (১৫ মার্চ) নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবন থেকে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, তামিলনাড়ু, কেরালা ও পদুচেরির ভোটের তফসিল ঘোষণা করে কমিশন। 

সংবাদিক সম্মেলনে এসে বিধানসভা নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ সূচি ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী।

সাংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানান, তিন রাজ্যে আসাম, তামিলনাড়ু ও কারালায় নির্বাচন হবে এক ধাপে। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতেও এক ধাপে নির্বাচন হবে। তবে পশ্চিমবঙ্গে দুই ধাপে ভোটগ্রহণ হবে। সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ফলপ্রকাশ হবে একই দিনে। আগামী ৪ মে পাঁচ বিধানসভার ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৭ মে।

চার রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলে বিধানসভা নির্বাচনের মোট ভোটর ১৭ কোটি ৪০ লাখ। এই পাঁচ বিধানসভা নির্বাচনে আসন রয়েছে ৮২৪টি।

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভায় আসন ২৯৪টি। দুই ধাপের প্রথম ধাপে ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হবে। পশ্চিমবঙ্গে প্রথম ধাপে ১৫২ আসনে এবং দ্বিতীয় ধাপে ১৪২ আসনে ভোট নেওয়া হবে। 

পশ্চিমবঙ্গে মোট ভোটার ৬ কোটি ৪৪ লাখ। এই রাজ্যে পুরুষ ভোটার ৩ কোটি ২৮ লাখ এবং নারী ভোটার ৩ কোটি ১৬ লাখ। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ১৫২ জন।

এই রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচনের গেজেট নোটিফিকেশনের শেষ দিন ৩০ মার্চ। দ্বিতীয় দফার গেজেট নোটিফিকেশনের শেষ দিন ২ এপ্রিল। প্রথম এবং দ্বিতীয় ধাপে মনোনয়নপত্র জমার দেওয়ার শেষ দিন যথাক্রমে ৬ এপ্রিল এবং ৯ এপ্রিল। প্রথম এবং দ্বিতীয় ধাপের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিন যথাক্রমে ৭ এপ্রিল ও ১০ এপ্রিল।

আসাম বিধানসভায় ১২৬টি আসনে মোট ভোটার ২ কোটি ৫০ লাখ। ৯ এপ্রিল আসামে এক ধাপেই ভোটগ্রহণ হবে। আগামী ২০ মে আসাম বিধানসভার মেয়াদ শেষ হবে।

কেরালা বিধানসভায় ১৪০টি আসনে আগামী ৯ এপ্রিল এক ধাপেই হবে ভোটগ্রহণ। রাজ্যটিতে মোট ভোটার ২ কোটি ৭০ লাখ। 

কেরালার পঞ্চদশ বিধানসভার মেয়াদ আগামী ২৩ মে শেষ হবে। 

তামিলনাড়ুতে ২৩৪টি বিধানসভা আসনে ২৩ এপ্রিল এক ধাপেই ভোটগ্রহণ করা হবে। এই রাজ্যে মোট ভোটার ৫ কোটি ৬৭ লাখ। 

আগামী ১০ মে তামিলনাড়ু বিধানসভায় মেয়াদ শেষ হতে হবে। 

পুদুচেরির ৩০টি বিধানসভা আসনে হবে ৯ এপ্রিল এক ধাপেই ভোটগ্রহণ হবে। রাজ্যটিতে মোট ভোটার ৯ লাখ ৪৪ হাজার। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটির বিধানসভার মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১৫ই জুন। 

ভারতের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মোট প্রায় ২৫ লাখ ভোট কর্মী এই পাঁচ রাজ্যের ভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন। তাদের মধ্যে ১৫ লাখ পোলিং কর্মকর্তা, সাড়ে ৮ লাখ নিরাপত্তা রক্ষী, ৪৯ হাজার মাইক্রো অবজার্ভার, ১ হাজার ৪৪৪ অবজার্ভার, ৪ লাখ কাউন্টিং অফিশিয়াল, ২১ হাজার সিকিউরিটি অফিসার এবং গণনার জন্য ১৫ হাজার মাইক্রো অবজার্ভার থাকবেন।

পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন ছাড়াও রবিবার অন্য ছয়টি রাজ্যের আটটি বিধানসভা আসনের উপ-নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। গুজরাট, গোয়া, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ডের একটি করে আসনে এবং কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্রে দুটি করে আসনে উপ-নির্বাচন রয়েছে। ওই আটটি আসনের উপ-নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে কমিশন। গোয়া, কর্ণাটক, নাগাল্যান্ড ও ত্রিপুরায় উপ-নির্বাচন হবে ৯ এপ্রিল। গুজরাট ও মহারাষ্ট্রে উপ-নির্বাচন হবে ২৩ এপ্রিল। আট আসনেরই ভোটগণনা হবে ৪ মে।

ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের পর পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম নির্বাচন হচ্ছে। বিহারের পর পশ্চিমবঙ্গই দ্বিতীয় রাজ্য, যেখানে নির্বাচন হতে চলেছে। খসড়া তালিকায় আগেই ৫৮ লাখ নাম বাদ যায়। এখন আরো ৬০ লাখ ভোটারের নাম বিবেচনাধীন রয়েছে। তারা ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন করা নিয়ে আপত্তিও শোনা যাচ্ছে। 

অবশ্য রবিবার সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেছেন, ‍“ইতিমধ্যেই এসআইআর হয়েছে পাঁচ রাজ্যে। কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না।”

পশ্চিমবঙ্গে গত বিধানসভা ভোট আট ধাপে হয়েছিল। এ বার দুই ধাপে কেন? সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জ্ঞানেশ বলেন, “কমিশন মনে করছে ধাপ কমানো প্রয়োজন। সবার পক্ষে সুবিধাজনক- এমন একটি পর্যায়ে এটি নামিয়ে আনা দরকার।”

আসাম বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট বর্তমানে আসাম বিধানসভার ১২৬টি আসনের মধ্যে ৮৬টিই নিজেদের দখলে রেখেছে। এই রাজ্যে শক্ত লড়াই হবে কংগ্রেসের সঙ্গে। 

কেরালায় বিধানসভা নির্বাচনে ‘বাম গণতান্ত্রিক জোট’ বা এলডিএফ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বিজেপি এবং কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ‘সংযুক্ত গণতান্ত্রিক জোট’ বা ইউডিএফের বিরুদ্ধে। 

তামিলনাড়ুতে এমকে স্টালিনের নেতৃত্বাধীন ও ক্ষমতাসীন দল ডিএমকে এবং তাদের জোটসঙ্গী কংগ্রেসের সঙ্গে লড়াই হবে বিজেপির। দলটির পাশে জোটসঙ্গী হিসেবে থাকছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ইদাপ্পাদি কে. পালানিস্বামীর নেতৃত্বাধীন এআইএডিএমকে। 

কেন্দ্রশাসিত পুদুচেরি অঞ্চলটি বর্তমানে এনডিএ জোটের শাসনাধীন। বিধানসভায় মোট আসন ৩৩টি। এর মধ্যে এনডিএ জোটের হাতে রয়েছে ২৩টি আসন। ডিএমকে ও কংগ্রেসের সম্মিলিত জোটের দখলে রয়েছে মাত্র আটটি আসন। এখানেও কঠিন লড়াই হবে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সঙ্গে।