আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারাপারের অপেক্ষায় প্রায় এক হাজার জাহাজ অবস্থান করছে, যার মধ্যে রয়েছে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ২০০টি তেলের ট্যাঙ্কার।
রবিবার (১৫ মার্চ) আল-জাজিরার ওই অঞ্চলের সংবাদদাতা ইনাজমাম রশিদ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সামরিক বাহিনী এই অত্যন্ত কৌশলগত জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখায় তেলের বাজারে এর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে; বিশ্বজুড়ে তেলের দাম আকাশচুম্বী হচ্ছে এবং জ্বালানি খরচ বাড়ছে।
জাহাজগুলো যখন এই পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বা হরমুজ প্রণালির প্রবেশপথের কাছাকাছি আসছে, তখন ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বেশ কিছু হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ইনাজমাম রশিদ জানান, “কয়েক দিন আগে, আমি বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে দূরে একটি জাহাজ জ্বলতে দেখেছি। এটি ইরানি সামরিক বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছিল কিনা তার কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে গত কয়েক সপ্তাহের একই ধরনের কর্মকাণ্ডের কথা বিবেচনা করলে সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”
ইরান ঘোষণা দিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে এই পথ দিয়ে যেতে দেবে না, যদিও অন্যান্য জাহাজগুলো যাতায়াত করতে পারবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কহীন জাহাজগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
আল-জাজিরার সাংবাদিকের মতে, “এই তো সেদিন, থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করার সময় সেটিকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ওমানের নৌবাহিনী প্রায় ২০ জন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করে। ধারণা করা হচ্ছে, এখনও প্রায় তিন জন ক্রু সদস্য সমুদ্রে নিখোঁজ রয়েছেন।”
এদিকে, এমন পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটি যেকোনো মূল্যে সচল রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “অনেক দেশ, বিশেষ করে যারা ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রচেষ্টার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত, তারা এই প্রণালিকে উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখতে আমেরিকার সাথে একযোগে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে।”
পোস্টে ট্রাম্প আরো বলেন, “আশা করি চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য দেশ যারা এই কৃত্রিম বাধার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত, তারা ওই অঞ্চলে জাহাজ পাঠাবে। যাতে করে একটি সম্পূর্ণভাবে পঙ্গু হয়ে যাওয়া জাতির পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি আর কখনোই হুমকি হয়ে না দাঁড়াতে পারে।”
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ‘উপকূলীয় অঞ্চলে ভয়াবহ বোমা হামলা চালাবে’, বলেও হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প আরো যোগ করেন, তিনি ‘যেভাবেই হোক’ এই প্রণালি উন্মুক্ত করবেন।