সম্প্রতি ভারতের হরিয়ানার গুরুগ্রামে একাধিক স্কুলে বোমা হামলার হুমকিমূলক ই-মেইল পাঠানোর অভিযোগে এক সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে গুরুগ্রাম পুলিশ।
শুক্রবার (২০ মার্চ) গুরুগ্রাম পুলিশের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ই-মেইলের মাধ্যমে বোমা হামলার হুমকি পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদ থেকে পুলিশ ৩০ বছর বয়সী সৌরভ বিশ্বাস ওরফে মাইকেলকে গ্রেপ্তার করে। তিনি বাংলাদেশের বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, ৯ বছর আগে তিনি অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। ভারতে অবস্থানকালে ভুয়া নথি সংগ্রহ করে ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে ফেলেছিলেন বলেও অভিযোগ।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি স্বীকার করেছে যে, ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যেই তিনি বোমা রাখার ভুয়া খবর ছড়িয়েছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি জেরায় স্বীকার করেছে যে হুমকিগুলো ঢাকা থেকে দেওয়া হয়েছিল এবং বোমার হুমকি পাঠানোর জন্যই ওই ই-মেইল আইডিটি তিনি তৈরি করেছিলেন।
অভিযুক্ত সৌরভ বিশ্বাস উচ্চমাধ্যমিক পাস এবং ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের কাজে যুক্ত। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গোবিন্দপল্লী এলাকার শ্রীপল্লী বাজারে বসবাস করছিলেন সৌরভ।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি, গুরুগ্রামের বেশ কয়েকটি স্কুলে ই-মেইলের মাধ্যমে বোমার হুমকি আসার পরই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় থানার পুলিশ, ডগ স্কোয়াড (প্রশিক্ষিত কুকুর বাহিনী), বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল এবং ফায়ার সার্ভিসের টিম সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলোতে পরিদর্শন করে শিক্ষার্থী, স্কুলের শিক্ষকদের নিরাপদ স্থলে নিয়ে আসে এবং তদন্তও শুরু হয়।
যদিও, তল্লাশি অভিযান চালিয়ে সেসময় কোনো বোমা বা বিস্ফোরক পদার্থ না পাওয়ায় এবং পুরো বিষয়টি একটি ভুয়া খবর হিসেবে নিশ্চিত হওয়ার পর, পুলিশ ‘সাইবার ক্রাইম সাউথ’ থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) এবং তথ্যপ্রযুক্তির আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় একটি এফআইআর দায়ের করে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, তদন্ত চলাকালীন গত বৃহস্পতিবার গুজরাটের আহমেদাবাদ থেকে অভিযুক্তদের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সাইবার বিভাগের এসিপি (এসিপি) প্রিয়াংশু দেওয়ান বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি জানায় যে, গত পাঁচ বছর ধরে তিনি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের কাজ করছেন। তিনি একটি ফেসবুক গ্রুপের সদস্য ছিলেন, যেখানে মামুনুর রশিদ নামের এক বাংলাদেশি ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই ব্যক্তি ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে প্রায় ২৫০ মার্কিন ডলার দিয়েছিল সৌরভকে, যার বিনিময়ে তাকে প্রায় ৩০০টি জি-মেইল আইডি সরবরাহ করেছিল সৌরভ। আর ওই আইডিগুলোর একটি ব্যবহার করেই স্কুলগুলোতে বোমা হামলার বিষয়ে ভুয়া ই-মেইলগুলো পাঠানো হয়েছিল।”
বর্তমানে তদন্তকারী কর্মকর্তারা আরো তথ্য জানতে সৌরভকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। এই ঘটনার সঙ্গে কোনো জঙ্গি যোগ আছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।