আন্তর্জাতিক

তেহরানজুড়ে একের পর এক বিস্ফোরণ

ইরানের রাজধানী তেহরানে নতুন ধরে বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। আজ সোমবার তেহরানের বিভিন্ন শহর থেকে একের পর বিস্ফোরণের খবর আসছে বলে জানিয়েছে কাতারের সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। 

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী একটি বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে, তারা তেহরানে ইরান সরকারের অবকাঠামো লক্ষ্য করে ‘ব্যাপক বিমান হামলার নতুন একটি ধাপ’ শুরু করেছে। তেহরানজুড়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর আসার পরপরই এই ঘোষণা এল।

ইরানের বার্তা সংস্থা ফারস জানায়, রাজধানীর শহীদ বাবায়ি এক্সপ্রেসওয়ের কাছের অন্তত দুটি স্থান এবং শহরের পূর্ব উপকণ্ঠের পারচিন শহর ও পশ্চিমে খোররামাবাদ শহরে হামলা চালানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হাফেজ এবং জমহুরি স্ট্রিটের সংযোগস্থলে একটি ‘ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ’ শোনা গেছে। এটি একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা যেখানে সরকারি দপ্তর, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক ভবন রয়েছে। 

খোররামাবাদ শহরে একটি আবাসিক ভবনে বিমান হামলায় এক শিশু নিহত হয়েছে এবং আরো বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ফারসের পোস্ট করা একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মী ও বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবিতদের খোঁজে মরিয়া হয়ে খোঁড়াখুঁড়ি করছেন। 

বার্তা সংস্থাটি তেহরানের ১, ৪, ১১, ১৩ ও ২১ নম্বর এলাকাতেও ‘ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ’ পাওয়ার কথা জানিয়েছে। এসব এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও হতাহতের খবর পরে জানানো হবে বলে তারা উল্লেখ করেছে।

এদিকে, ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানায়, তুরস্ক ও ইরাক সীমান্তের কাছে উত্তর-পশ্চিম উরমিয়ার একটি আবাসিক এলাকায় বিমান হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়াদের উদ্ধারে রেস ক্রিসেন্টের জরুরি কর্মীরা কাজ করছেন।

সংস্থাটির পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ভবনের দেয়াল ও জানালা উড়ে গেছে এবং উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তল্লাশি চালাচ্ছেন।

আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি সুহাইব আল-আসার তথ্যমতে, ইরানি রাজধানীতে বিশেষ করে শহরের পূর্ব দিকে বিস্ফোরণের মাত্রা ও শব্দ ছিল ‘নজিরবিহীন’।

আল জাজিরার যাচাইকৃত একটি ফুটেজে দেখা গেছে, তেহরানের পশ্চিমে খোররামাবাদ শহরের বাসিন্দারা বিমান হামলার পর একটি বিধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালাচ্ছেন। এলাকাটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বাসিন্দারা টর্চ লাইট ব্যবহার করছেন।

ইরানের মেহের নিউজের তথ্যমতে, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ বন্দর শহর বন্দর আব্বাসে ইরানি আইআরআইবি রাষ্ট্রীয় রেডিও স্টেশনের একটি ১০০ কিলোওয়াট এএম ট্রান্সমিটারেও হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় একজন নিহত এবং অন্য একজন আহত হয়েছেন। তবে প্রচার কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানানো হয়।

হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সির তথ্যানুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত তিনজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে নিহত বেসামরিক নাগরিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪০৮ জনে। এর মধ্যে শিশুর সংখ্যা ২১৫ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের ১৫টি প্রদেশ জুড়ে অন্তত ২০৬টি হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

মার্কিন সিনেটের মাইনোরিটি লিডার চাক শুমার ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। আজ সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “যথেষ্ট হয়েছে। এই যুদ্ধ বন্ধ করুন।” 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই যুদ্ধের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি ডলার নষ্ট হচ্ছে এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম গড়ে ৩ দশমিক ৯৪ ডলারে পৌঁছেছে।