আন্তর্জাতিক

প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি ও মার্কিন নৌ বহরে হামলার দাবি ইরানের

সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরে আঘাত হানার দাবি করেছে ইরান। খবর আল-জাজিরার। 

সোমবার (২৩ মার্চ) ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান যৌথ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের একজন মুখপাত্র জানান, তাদের বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনে মোতায়েনকৃত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরে হামলা চালিয়েছে।

ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর দাবি, প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন গোয়েন্দা বিমান মোতায়েন থাকে। সেখানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা জানায়। তাদের মতে, এই ঘাঁটিটি মার্কিন সামরিক মোতায়েন ও অপারেশনের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

আল-জাজিরা বলছে, ইরানের এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং মার্কিন বা ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান ব্র্যাড কুপার দাবি করেন, ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার ফলে ‘হতাশা’ থেকে এই অঞ্চলের বিভিন্ন বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’-কে তিনি বলেন, “তারা চরম হতাশার মধ্যে কাজ করছে... গত কয়েক সপ্তাহে তারা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ৩০০ বারেরও বেশি হামলা চালিয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “সংঘাতের শুরুতে আপনারা দেখেছিলেন যে তারা ডজন ডজন ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ত। এখন আর তেমনটি দেখা যায় না। বর্তমানে তারা কেবল একটি বা দুটি করে ছুড়ছে।”

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা নাটকীয়ভাবে কমেছে। মার্চের প্রথম সপ্তাহে পেন্টাগন জানিয়েছিল যে, যুদ্ধের প্রথম দিনের তুলনায় বর্তমানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ৯০ শতাংশ এবং ড্রোন হামলা ৮৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

তবে কিছুদিন আগে আইআরজিসি এক ঘোষণায় বলেছিল, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেও তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও মজুত প্রক্রিয়া পুরোদমে চলছে।

গত শুক্রবার (২০ মার্চ) ইসরায়েলি হামলায় নিহত হওয়ার আগে আইআরজিসির মুখপাত্র জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েনি এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, “আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পের সক্ষমতার স্কোর ২০-এ ২০। এই বিষয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই কারণ আমরা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করছি, যা বিস্ময়কর। এছাড়া এগুলো মজুত করার ক্ষেত্রেও বিশেষ কোনো সমস্যা নেই।”