প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোমবার দাবি করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে ‘অত্যন্ত জোরালো আলোচনা’ হচ্ছে তার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের। তবে এখন পর্যন্ত, আলোচনার খুব সামান্য একটি সূচনার লক্ষণই কেবল দেখা যাচ্ছে।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীরভাবে সন্দিহান। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও জুনে অনুষ্ঠিতব্য দুই দফা আলোচনাই যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ইসরায়েলি হামলায় ভেস্তে গিয়েছিল।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে ফোনালাপের খবর পাওয়া গেছে। কিন্তু এই আলোচনাগুলোকে খুবই প্রাথমিক পর্যায়ের বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিশরসহ অনেক দেশ উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে। এই তিন দেশের নেতাদেরই ট্রাম্পের সঙ্গে শক্তিশালী ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে এবং এই সংকটের সময় তারা আরব নেতাদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ইরানের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ওমান, যা দেশটির ঐতিহ্যবাহী মধ্যস্থতাকারী, তারাও এই প্রক্রিয়ায় জড়িত।
এই মুহূর্তে বিশ্ব এক অনিশ্চিত সময়ের মধ্যে রয়েছে। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ শিগগিরই মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে দেখা করতে পারেন বলে যে খবর প্রকাশিত হচ্ছে, তা অলীক কল্পনা বলেই মনে হচ্ছে।
ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার ডেলসি রদ্রিগেজের মতো একজন ইরানি সংস্করণ খুঁজে চলেছেন – এমন একজন শক্তিশালী কিন্তু বাস্তববাদী খেলোয়াড়, যাকে তিনি নিজের ইচ্ছামতো পরিচালনা করতে পারবেন। তবে বাস্ততা হচ্ছে, ইরানের ধর্মগুরু ও কমান্ডারদের বহুস্তরীয় ব্যবস্থায় এমনটা ঘটবে না।
ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিবিসির সংবাদ সহযোগী সিবিএস-কে বলেছেন, “আমরা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কিছু বিষয় পেয়েছি এবং সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।”
সিবিএস স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই পদক্ষেপটি ‘আলোচনার একটি সম্ভাব্য পূর্বসূরি’ হিসেবে নেওয়া হয়েছে এবং আলোচনা নিশ্চিত বা চলমান নয়।
হোয়াইট হাউসও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, পরিস্থিতি ‘পরিবর্তনশীল। হোয়াইট হাউস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করা পর্যন্ত বৈঠক সংক্রান্ত কোনো জল্পনা-কল্পনাকে চূড়ান্ত বলে গণ্য করা উচিত নয়।’